১৭ এপ্রিল, ২০২৩ ১৮:৪৭
তীব্র দাবদাহে আর রমজানের শেষ সময়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং চলছে। সেহরির সময়েও কোন কোন স্থানে বিদ্যুৎ থাকছে না। অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। কলকারখানায় উৎপাদনে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকরাও জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। এক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা করে লোডশেডিং চলছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে উপজেলায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১১ মেগাওয়াট। তবে উপজেলায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি থাকার কারণে পর্যায়ক্রমে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং চলছে। অব্যাহত লোডশেডিং এর কারণে চা কারখানাসহ বিভিন্ন ধরণের কারখানা, ওয়ার্কশপ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। পাশাপাশি সেচের চাহিদাকৃত এলাকায়ও বিদ্যুতের অভাবে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ গ্রাহকরাও অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন।
শমশেরনগর বাজারের ব্যবসায়ী মুর্শেদুর রহমান সেজু, শিপন আহমেদ, চিকিৎসক আব্দুল মোত্তাকিন বলেন, গোপালনগর গ্রামের যুবলীগ নেতা জহির আলম নান্নু বলেন, বর্তমানে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। এক ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করছে। অথচ পর্যায়ক্রমে সারা উপজেলায় একঘণ্টা হারে লোডশেডিং হওয়ার কথা ছিল। তাছাড়া সেহরির সময়ে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
কমলগঞ্জ পৌর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমানে দেশে ভাল অবস্থানে রয়েছে। তারপরও প্রচণ্ড গরমে এতো লোডশেডিং এখন সহ্যের বাহিরে চলে যাচ্ছে। লোডশেডিং এর সময়সুচি জনসাধারণকে পূর্ব থেকে অবহিত করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনালের ডিজিএম মীর গোলাম ফারুক বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই সমস্যা কেটে যাওয়ার কথা। আসলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যাজনিত কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে আমরা যথাসাধ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করছি।
আপনার মন্তব্য