তাহিরপুর প্রতিনিধি

২৫ এপ্রিল, ২০২৩ ১৯:২৮

তাহিরপুরে যুবককে হাত-পা ভেঙে হত্যা

পূর্ব বিরোধের জের ধরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সাকিব মিয়া (২৭) নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে এরপর হাত-পা ভেঙে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাকিব মিয়া ঘাগটিয়া গ্রামের মো. মজিবুর মিয়ার ছেলে।

নিহতের ফুফাত ভাই কতুব উদ্দিন জুয়েল জানান, সোমবার রাত আটটার দিকে ঘাগটিয়া গ্রামের বাজারে নিহত সাকিবের সঙ্গে একই গ্রামের ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেনের সাথে পূর্ব বিরোধের জের ধরে বাকবিতণ্ডা চলছিল। এরপর পরেই মোশাররফ হোসেন নির্দেশে ৭/৮ জন মিলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাকিবকে ধরে নিয়ে যায় মোশারফের বাড়িতে। সেখানে সাকিবকে আটকে রেখে নির্যাতন করে।

জুয়েল জানান, খরব পেয়ে সাকিবের পিতা মজিবুরসহ তার আত্মীয় স্বজন সাকিবকে উদ্ধার করতে গেলেও উদ্ধার করতে পারেনি। রাতে নির্যাতনের ফলে সাকিবের অবস্থা আশংকাজনক হলে মোশাররফ হোসেন তাদের লোকজনকে দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করার পর সাথে যাওয়া লোকজন গা ঢাকা দেয়। এদিকে রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত সাকিবের কোনো তথ্যই পায়নি পরিবারের লোকজন।

জুয়েল আরও জানান, এরপর তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে খোঁজ করে না পেয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে সকাল ১১টায় সময় জানতে পারেন রাতে সাকিবকে লোকজন নিয়ে আসে। এই খবর জানাজানি হলে সকাল পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে।

নিহত সাকিবের বাবা মজিবুর জানান, কিছু দিন আগেও একেই ভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করেছিল মোশাররফের লোকজন। এছাড়াও ২০১৬ সালে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন ও জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুর রহমানের ছোট ভাই আকাশের সাথে ঝগড়া করে হাতের দুটি আঙুল কেটে ফেলেছিল নিহত সাকিবের বাবা মজিবুরের। এরপর সাকিবের বাবার বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এই ঘটনা উভয় পক্ষই আপোষে মীমাংসা করা হয়েছিল। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

তবে মোশাররফ হোসেন বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, ‘কিছুদিন আগে আমার ছোট ভাই মোশাহিদের শরীরে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল সাকিব। বিষয়টি তার (সাকিবের) বাবাকে জানালে তিনি বলেন, আমার ছেলে মানসিক রোগী। সোমবার রাত ১টার দিকে সাকিব আমার ঘরের বেড়া এবং গেইটে লাথি মারতে থাকে এবং পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেবে বলে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকে। পরে আমরা গেইটের ভিতর থেকে চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ ডাকাত বলে তাকে মারপিট করে। একপর্যায়ে তার বাবা এসে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।’

নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ ইফতেখার হোসেন জানান, নিহতের লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে, সেখানেই ময়নাতদন্ত হবে। এরপর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সুনামগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রিপন কুমার মোদক জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত