সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২৮ এপ্রিল, ২০২৩ ২২:২১

প্রাণভিক্ষা চেয়েও সাকিবকে বাঁচাতে পারেননি বাবা

তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবক সাকিব আহমেদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো নিহতের পরিবার অভিযোগ করছে, পুলিশ খুনিদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে কাউকে গ্রেপ্তার করছে না।

গত সোমবার রাতের ওই হত্যার ঘটনা মনে করে এখন ছেলের শোকে পাগলপ্রায় অবস্থা সাকিবের বাবা-মার। খুনিদের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েও ছেলেকে বাঁচাতে না পারায় তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন সাকিবের বাবা মজিবুর মিয়া। কারো সঙ্গে কথা বলছেন না, মাঝে মধ্যে কেবল বিলাপ করছেন।

গত বৃহস্পতিবার জাদুকাটা নদী পার হয়ে ঘাগটিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় সাকিবদের বাড়িতে অসংখ্য মানুষের ভিড়। কেউ সাকিবের বাবা মুজিবুরকে, কেউ মা তেরাপজন বেগমকে শান্তনা দিচ্ছেন। কাঁদতে কাঁদতে মুজিবুর মিয়া বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমার ছেলেকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায় তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন তালুকদারের লোকজন। আমরা কেউ জানতাম না। খবর পেয়ে গিয়ে দেখি, আমার ছেলেকে তারা সবাই মিলে মারধর করছে। এই অবস্থা দেখে তাদের কাছে আমি ছেলের প্রাণভিক্ষা চাই। কিন্তু তারা উল্টো আমাকে মারধর শুরু করে। মার সহ্য করতে না পেরে আমি ওখান থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হই। পরে বাড়িতে এসে শুনেছি সাকিবকে ওরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। তাকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেনি।

গত মঙ্গলবার রাতে মোশারফ হোসেনসহ তার পরিবারের ১০ জনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় মামলা করেছেন জানিয়ে মুজিবুর বলেন, ওরা অনেক প্রভাবশালী, অনেক টাকা। তাই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। পুলিশ আমার ছেলের খুনিদের পালানোর সুযোগ দিচ্ছে। উল্টো আমাকে পুলিশ বলেছে, আসামিরা কোথায় আছে তা জানলে যেন তাদের জানাই।

নিহত সাকিবের মা তেরাপজন বেগমও কাঁদতে কাঁদতে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন। শোকাহত এলাকাবাসী এই ঘটনা মেনে নিতে না পারলেও গণমাধ্যমে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেন এলাকায় ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গেও তার সখ্যতা রয়েছে। জাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলনে আধিপত্য ধরে রাখতে এর আগেও মোশারফ হোসেনের স্বজন ও মুজিবুরের স্বজনদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঈদের সপ্তাহখানেক আগে মোশারফের ছোট ভাই মোশাহিদের উপর পানি ছিটায় মুজিবুরের ছেলে সাকিব। এ ঘটনাকে পেট্রাল ছিটানো হিসাবে প্রচার করে মোশারফের লোকজন। ওই ঘটনার জেরেই সোমবার সাকিবকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।

এ ঘটনায় বক্তব্য জানতে মোশারফ হোসেনের ঘাগটিয়ার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় নি। বাড়ির প্রধান ফটকে তালা ঝুলানো রয়েছে। মোশারফের ফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল হোসেন খান বললেন, মোশারফ হোসেন নিরীহ ভদ্রলোক হিসাবেই পরিচিত। তার বাড়ির পাশে খুন হয়েছে বলে শুনেছি। তবে তিনি খুন করেছেন কিনা তা এখনো প্রমাণ হয়নি। তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা হয়েছে। তদন্তে এর সত্যতা মিললে দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে খুনিদের পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার যে অভিযোগ নিহত সাকিবের বাবা করেছেন তা অস্বীকার করেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহ্সান শাহ্। তার দাবি, পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসামিদের ধরার চেষ্টা করছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত