মো. বেলাল হোসাইন, জুড়ী

০৪ মে, ২০২৩ ১৭:২২

দালালের খপ্পরে পড়ে অসহায় মধ্যপ্রাচ্যগামীরা

দালালের খপ্পরে পড়ে মধ্যপাচ্যে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়ছেন বেশির ভাগ নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষেরা। জীবিকার তাগিদে  বাড়ি ঘর মা বাবা আত্বীয়স্বজন ছেড়ে দূর প্রবাসে পাড়ি জমালেও সেখানে সংশয় কাটছে না তাদের। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। এ রকম কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাদের মধ্যে একজন জুড়ী উপজেলার বিশ্বনাথ পুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে দুবাই পাঠিয়ে ভিসা লাগানো, দুবাইতে ভালো মানের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে শুধু জুড়ীর প্রায় অর্ধশত মানুষকে আবুধাবি পাঠিয়ে তাদের পরিবারে দুশ্চিন্তার কান্না এনেছে সেই সকল দালালরা।

তারেক আহমদ, খায়রুল আলম সেজু, কামিল হোসেন সহ কয়েকজন জানান, দুবাইতে ক্লিনার কাজের ভালো ভিসা আছে বলে আমাদের দুবাই পাঠায়, দেশে থাকতে টাকা নেয়। আমাদের বলেছিল, দুবাই আসলে তার লোকজন আছে, আমাদের থাকা খাওয়া সহ সব কিছুর ব্যবস্থা করে দেবে অথচ এখানে এসে আমরা একবারে অসহায় হয়ে গেছি, ভিজিট ভিসা দিয়ে আমাদের পাঠিয়েছিল পরে আমাদের ভিসা লাগায়নি।

তারেক আহমদ  আরও বলেন, আমার বাবা অসুস্থ, তাকে অনেক ফোন দেওয়ার পরও রিসিভ করে না, আমরা যে থানায় অভিযোগ দেবো আমাদের পরিবারে সে রকম মানুষ নেই।

জায়ফর নগর ইউনিয়নে বিচার প্রার্থী হয়েছিলাম, সেখানে বিচারে সাইদুল আমাদেরকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে টাকা না দিয়ে সবার অগোচরে সে বিদেশে চলে গেছে।

কামিল হোসেন নামের একজন জানান, তাকে ইউরোপ পাঠানোর জন্য টাকা নেয় সাইদুল। ভিজিট ভিসায় দুবাই পাঠিয়ে আর ফোন রিসিভ করে না,পরে আমার পরিবারের লোকজন তার বাড়িতে ঘুরতে ঘুরতে আমার ভিসা লাগাইছে তবে ইউরোপ যাওয়ার কোন প্রন্থা নেই।

ভবানীপুর গ্রামের রুহেল আহমদ দুবাই থেকে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে কয়েকজনকে কিরগিজস্তানে নিয়ে যান।সেখানে গিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা, পাসপোর্ট  নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি। এরপর থেকে আর তার খোজ পাওয়া যায়নি।

যাদের কিরগিজস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে জুড়ীর সাগরনালের কামরুজ্জমান নামের একজন ছিলেন।দেশে থাকা তার ছোট ভাই সাজুজ্জামান সুমন  জানান,তার ভাই সহ প্রায় ২০ জনকে কিরগিজস্তানে নিয়ে যায়। তাদের ভিসার মেয়াদ ছিল ১ মাস। সবার কাছ থেকে ৭-৮ লক্ষ টাকা করে নিয়ে রুহেল লাপাত্তা হওয়ার পর তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে তারা ইউরোপ যেতে না পেরে আত্বীয় স্বজনের সহায়তায় বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে দুবাই ফেরত এসেছেন।যাদের আত্বীয় -স্বজন নাই তারা এখন  মরনাপন্ন হয়ে আছেন।তাদের জীবন -মরন উপরওয়ালার কাছে।

মেহেদী হাসান নামের একজন আকুতি করে ফেসবুকে লিখেন, বাবার স্বপ্ন পূরনের জন্য ইউরোপ যাবো বলে সঞ্চিত টাকা জুয়েল তালুকদার নামের এক দালালকে দেই। সেই জুয়েল দালাল আমাকে দুবাই এনে সে আমার টাকা নিয়ে বাড়ি চলে যায়। এমনকি কেউ নেই যে আমার টাকাটা উদ্ধার করে দেবে! আমার মত কয়েকজন কে সে এভাবে আবুদাবি এনে বিপদে ফেলেছে।

শুধু সাইদুল ইসলাম নয়,খোজ নিয়ে যায়,জুড়ীর আরও অনেক দালাল আছেন যারা বিদেশে  ভালো বেতনে  কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে   ভিজিট ভিসায় লোক আবুদাবি পাঠায় পরে ভিসার মেয়াদ বাড়ায় না। তাদের আর খোজ পাওয়া যায় না। কয়েকদিন আগে গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম নামের আরেক দালালকে অনেক ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে দুবাইতে আটকে রাখেন। পরে সমাধানের আশ্বাসে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জায়ফর নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা বলেন, সাইদুলের বিষয়ে বিচারে সিদ্ধান্ত হয়েছিল,তবে টাকা না দিয়ে সে বিদেশ চলে যায়, আবার দেশে এসেছে।

জুড়ী থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, এসব বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত