০৭ মে, ২০২৩ ১৬:৩২
রুশেনা বেগম। আজমিরিগঞ্জের হাওরে ধান কেটে যে ছড়াগুলো পড়ে রয়েছে সেগুলো কুড়িয়ে তুলছেন। স্থানীয় ভাষায় এটিকে বলা হয় ‘লুড়া’। এই ‘লুড়া’ কুড়িয়ে বছরের খোরাক যোগান তিনি, এবং আরও অনেকেই।
গত বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের হাওরে রুশেনার মতো অসংখ্য নারী ও শিশুকে দেখা গেছে এমন ধানের ছড়াগুলো কুড়িয়ে তুলছেন।
রুশেনার সাথে কথা বলার সময় তিনি জানান, বোরো ধান কাটার শুরু থেকেই তিনি এভাবে ধান কুড়িয়ে আসছেন। শুধু এ বছরই নয়, প্রতি বোরো ও আমন ধান কাটার সময় এভাবে ধান কুড়িয়ে সারা বছরের খাবারের ধানের যোগান তিনি।
ছেলে-মেয়েসহ রুশেনার ৪ সদস্যের পরিবার। ৭ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। মানুষের বাড়িতে ও কখনো কখনো নিজেই মাটিকাটার কাজ করে চালিয়েছেন সংসার। এখন কিশোর বয়সী ছেলে রিকশা চালায় আর বড় মেয়ে মেয়ে সংসারের কাজ করে।
এবার ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা। তবে নারী শ্রমিকদের মজুরি ৩ থেকে ৪শ টাকার বেশি হয় না। তাই তারা কাজে না গিয়ে কাটা জমি থেকে ধান কুড়িয়ে সংগ্রহ করেন বছরের খাবারের চাল।
রুশেনা বলেন, ‘বৈশাখ মাসে আমরার রুজ কম থাকায় ধান কাটাত গেছি না। ডেইলি কাটা জমিনে লুইড়া আধা মণ কেজি ধান পাই। এখন পর্যন্ত ৫ মণ ধান তুলতাম পারছি।’
হাওরে দেখা যায় আরও বেশ কয়েকজন নারী ধান কুড়াচ্ছেন।
রুশেনার মতো শাফিয়া বেগমের গল্পটাও একই। তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী স্বামী কোন কাজ করতে পারেন না। প্রতিদিন দিনমজুরের কাজ করে ৩ মেয়ে স্বামীসহ ৫ জনের সংসার চালাতে হয় তার একাই।’
তিনি বলেন, ‘বৈশাখ মাসে কেউ কাজে নেয় না। নিলেও সকাল হওয়ার আগে ধান কাটাত যাইতে হয়। ধান কাইট্টা গিরস্তের (কৃষকের) বাড়ি পৌঁছে দিয়ে মাড়াই করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ১০টায় হয়ে যায়। কিন্তু মজুরি মাত্র ৩ থেকে ৪শ টাকা। এর লাইগা ধান কাটাত যাই না।’
আরেক নারী রাবিয়া খাতুন বলেন, ‘আর কয়েকদিন পরেই পানি আইব। বাড়িঘর সব ডুইব্বা যাইব। ওই সময় কাম কাজ করতে পারতাম না। এর লাইগা বছরের খোরাক ওখনই তুইল্লা রাখতাছি।’
আপনার মন্তব্য