১৭ মে, ২০২৩ ২০:০৬
প্রতীকী ছবি
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে বেড়েছে চোরের উৎপাত। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামের কোনো না কোনো ঘরে ঘটছে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা।
চোরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ ইতোমধ্যে ওপেন হাউজ ডে করেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র প্রতিদিন টার্গেট করে গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় চুরি করে পালিয়ে যায়। এমন ঘটনায় স্বস্তিতে নেই শত্রুমর্দন গ্রামসহ ইউনিয়নবাসী। এদিকে, চোর চক্রকে খুঁজে বের করতে বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে শত্রুমর্দন গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় প্রায় ১০টি ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘর থেকে মোবাইল ফোন, পোশাক-পরিচ্ছদ, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ গরু এমনকি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চুরি করে নিয়েছে চোরেরা। তারা জানান, মধ্যরাত কিংবা শেষরাত্রির দিকে চোর চক্র কৌশলে চুরি করে পালিয়ে যায়। কোনো ঘরের টিন কেটে, কোনো ঘরে সিঁদ কেটে আবার কোনো ঘরে তালা ভেঙে চুরি করে চোরেরা। তাদের লক্ষ্য নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, গরু ও স্বর্ণালঙ্কারের প্রতি। রাতের আঁধারে চোরেরা প্রথমেই বাইরে জ্বালানো (যদি থাকে) বাল্ব বন্ধ করে অথবা নষ্ট করে দেয়। পরে সুবিধামতো তাদের কাজ করে কেউ কিছু টের পাওয়ার আগেই পালিয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে শত্রুমর্দন গ্রামের ব্রাহ্মণপাড়ার মৃত অর্জুন চন্দের ছেলে অবিনাশ চন্দ, তার ভাই অলক চন্দ, বারিন্দ্র চন্দের ছেলে বাপ্টু চন্দ, একই গ্রামের মুসলিম পাড়ার আউয়াল উদ্দিন, সূত্রধরপাড়ার অর্জুন সূত্রধর ও সম্ভু সূত্রধরের ছেলে ভূষণ সূত্রধর, একই পাড়ার অভি সূত্রধরের ঘরে চুরি হয়েছে পাশাপাশি সময়ে। প্রত্যেকের ঘর থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে চোরেরা। এছাড়াও নিদনপুর গ্রামের সাগর বিশ্বাস নামের এক কৃষকের একটি গরু চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার এক প্রতিবেশী। এরআগে গত রোজায় শত্রুমর্দন বন্দেরবাড়ি এলাকা থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী ফিরোজ আলীর ঘর থেকে ৫টি গরু চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন থেকে চোরেরা সিএনজি চালিত অটোরিকশাও চুরি করে যাচ্ছে নিয়মিত। ঈদ উল ফিতরের ৩দিন আগে রাতের আঁধারে ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের সামন থেকে তৈয়ব আলীর ছেলে সাগর মিয়ার কন্ট্রাকে আনা সিএনজি অটোরিকশা ও হাজিবাড়ির রাস্তা থেকে সূর্জা মিয়ার ছেলে নিজাম মিয়ার সিএনজি অটোরিকশা (সুনামগঞ্জ-থ ১১-৩০৩২) চুরি হয়। গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের পাগলা বড় জামে মসজিদের রাস্তার মুখ থেকে মৃত মন্নার মিয়ার ছেলে রহিম আলীর নতুন ক্রয় করা সিএনজি অটোরিকশাটি নিয়ে যায় চোরেরা, যার নাম্বার সুনামগঞ্জ-ত ১১-০৫৪৮। চন্দপুর কোনারবাড়ির তখজ্জুল মিয়ার বাড়ি থেকে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে ৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোরচক্র। এসব ঘটনা ছাড়াও চুরির চেষ্টায় চোরেরা বিভিন্ন বাড়ি ঘরের বাইরে থাকা বাল্ব খোলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন এসব এলাকার একাধিক ব্যক্তি।
তখজ্জুল মিয়া বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার ঘরে সিঁদ কেটে চোর প্রবেশ করে। একটি আইফোন, দুটি স্মার্টফোন ও নগদ ১লক্ষ ২০ হাজার ৫শ টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। আমরা চেষ্টা করে আইফোনের খবর বের করি। পুলিশ গোবিন্দগঞ্জের একটি দোকান থেকে তা উদ্ধার করেছে। মামলা করেছি। মোবাইল ফোনটি বর্তমানে পুলিশের কাছে আছে।
অর্জুন চন্দ, ভূষণ সূত্রধর বলেন, আমাদের ঘর থেকে মোট আড়াই ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোরেরা। আমাদের একেবারেই নিঃস্ব করে নিয়ে গেছে। আমরা তো একেবারেই শেষ হয়ে গেলাম।
সিএনজি অটোরিকশাচালক রহিম আলী বলেন, আমি ৭/৮দিন আগে গাড়িটি কিনেছিলাম। জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে এ গাড়িটি কিনেছি। মাত্র ২দিন চালিয়েছি। বৃষ্টির জন্য বাড়ির সামনে রেখে বাড়িতে যাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই চুরি হয়ে যায় আমার গাড়িটি। এখনো খুঁজাখুঁজি করছি। আজ (গতকাল) মামলা করবো।
প্রতিবন্ধী ফিরোজ আলী জানান, গত ২৩ রমজানে তার ৫টি গরু চুরি হয়েছে। তার ঘর থেকে রাতে তা নিয়ে যায় চোরেরা।
চুরি বন্ধে সতর্ক অবস্থানে আছে শান্তিগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন। চুরি বন্ধে ইতোমধ্যে ১৫ মে সোমবার দিবাগত রাত ৯টায় পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন কেন্দ্রীয় রামকৃষ্ণ জিউর আখড়ায় ওপেন হাউজ ডে করেছে শান্তিগঞ্জ থানা। সভায় চুরি ও মাদক বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ চৌধুরী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এসআই সুব্রত, আবদুল অদুদ, ইউপি চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার, আখড়া কমিটির সভাপতি শিবুল চক্রবর্তী, রঞ্জিত পাল রনো, ইউপি সদস্য রঞ্জিত সূত্রধর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা, কুমোদ সূত্রধর, ইউপি সদস্য জফরুল হক জফর, পাগলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য তুয়েল মিয়া, সমাজকর্মী তপন চক্রবর্তী, মনোজ চক্রবর্তী, হারান চক্রবর্তী, দিগেশ সূত্রধর, জ্যোতিষ আচার্য, হরেন্দ্র সূত্রধর, অর্জুন সূত্রধর, সতু সূত্রধর, সজল দেব, নিকুঞ্জ সূত্রধর, সত্যেন্দ্র সূত্রধর, সুনীল সূত্রধর, সজল সূত্রধর, সুধন চন্দ, বিপুল দেব, অবিনাশ চন্দ, কামাল হোসেন, সজীব আচার্য ও অজয় চক্রবর্তী।
ওসি মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, আমরা চুরি বন্ধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। আমাদের টিম কৌশলে চোরদের ধরতে কাজ করছে। খুব শিগগির চোর চক্রের মূলোৎপাটন করবো। সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
আপনার মন্তব্য