২০ মে, ২০২৩ ১৫:২৯
দল আর নির্বাচন- এই দুটির মধ্যেই একটিকে বেছে নিতে হবে সিলেট সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে হলে দল ছাড়তে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্যকে। অথবা দলে অবস্থান টিকিয়ে রেখে নির্বাচন থেকে সরে দাড়াতে হবে। দীর্ঘ জল্পনা কল্পনার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই এ ব্যাপারে নিজের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন আরিফ।
শনিবার বিকেলে নগরের রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশ ডেকেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। এই সমাবেশ থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আর এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরের রেজিস্টার মাঠে তৈরি করা হয়ে এক বিশাল মঞ্চ। যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক মাস ধরে চলয়ান সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানোর কথা রয়েছে আরিফের।
এদিকে রেজিস্ট্রারি মাঠের এ সমাবেশকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দলে দলে ও খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা রেজিস্ট্রারি মাঠ অভিমুখে রওনা হয়েছেন। এছাড়া সকাল থেকেই অনেকেই সেখানে উপস্থিত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। তবে বিএনপি নেতা আরিফুল হক নাগরিক সমাজের ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে শুরু থেকেই গুঞ্জন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আরিফুল হকের বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকান্ডে এই গুঞ্জন ও নগরবাসীর কৌতুহল আরো বাড়িয়েছে।
সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগের দিন, ২ এপ্রিল হঠাৎ লন্ডন সফরে যান মেয়র আরিফ। সেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়াপার্সন তারেক রহমানের সাথে দেখা করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষেই আরিফ ঘোষণা দেন- এবার প্রার্থী হচ্ছেন না তিনি। আরিফকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান করা হচ্ছে বলেও গুঞ্জন ওঠে সেসময়।
তবে দেশে ফিরে নির্বাচন নিয়ে খোলাসা করে কিছু বলেননি আরিফ। এরমধ্যে ১ মে শ্রমিক দিবসের এক সমাবেশে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে মেয়র আরিফ বলেন- সারা দেশে বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও সিলেটের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সিলেটে আমরা নির্বাচনে যাবো। ২০ মে জনসভা করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবো।
আরিফের এই বক্তব্যে ফের শুরু হয় তোলপাড়। বিশেষত বিএনপির মধ্যে অস্বস্থি দেখা দেয়। আরিফকে নির্বাচন থেকে দূওে রাখতে নানামূখী তৎপরতাও শুরু করেন বিএনপি নেতারা।
গত ১০ মে সিলেট মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ঢাকায় সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সিলেট মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃবৃন্দকে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেন। তারেক রহমানের এ নির্দেশনায় আরেক দফা ‘বাধার মুখে’ পড়তে হলো আরিফুল হক চৌধুরীকে। সেই বাধায় আারিফ নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়বেন নাকি বাধা ডিঙিয়ে ভোটে লড়বেন- তা জানা যাবে আজ।
আপনার মন্তব্য