২২ মে, ২০২৩ ২২:২৭
নানামুখী তৎপরতা সত্ত্বেও সিলেটের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পারছে না বিএনপি। দলটির বেশ কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মঙ্গলবার শেষদিনে আরো কয়েকজন মনোনয়নপত্র জমা দিবেন বলে জানা গেছে।
সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটি সিটি মেয়র, এমনকি কাউন্সিলর পদেও দলীয় নেতাদের অংশ না নিতে নির্দেশনা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি নেতা ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিনার খান হাসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিকুল হাদী, ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম এবং ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল।
আরো কয়েকজন বিএনপি নেতা মঙ্গলবার শেষদিনে মনোনয়নপত্র জমা দিবেন বলে জানা গেছে। কাউন্সিলর পদে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাধারণ ৪২টি ও সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডে বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী প্রার্থী হওয়ার তৎপরতা শুরু করেন। তাদের কয়েকজন দলের চাপে শেষ মুহূর্তে মনোনয়নপত্র জমা না দিলেও অনেকেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অনড়।
সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বিএনপি নেতারা বলছেন, কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয় না। প্রার্থীরা দলীয় পরিচয়ও ব্যবহার করেন না। সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে যে কেউ এতে প্রার্থী হতে পারেন। এলাকাবাসীর চাপে তারা প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার যাতে বিএনপির কেউ প্রার্থী না হন এ ব্যাপারে নানামুখী তৎপরতা শুরু করে দলটি। বিশেষত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরাতে ২৫ সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর নাম কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া ৩২ সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয় মহানগর বিএনপি।
গত ২০ মে রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশ করে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। তার আগে ৪ নং ওয়ার্ডের চারবারের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সোমবার ১৯ নং ওয়ার্ডের ৩ বারের সাবেক কাউন্সিলর দিনার খান হাসু নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দেন।
তবে হাসুর বর্জনের দিনেই প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপি নেতা ও ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিকুল হাদী, ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম এবং ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল।
সিলেট সিটি করপোরেশনে বর্তমানে ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। গত নির্বাচনে ওয়ার্ড ছিল ২৭টি। এর মধ্যে ৬টি সাধারণ ওয়ার্ডে এবং ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের একটিতে বিএনপিপন্থিরা কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তারা হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে রেজাউল হাসান লোদী কয়েস, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ফরহাদ চৌধুরী শামীম, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম মুনিম, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুর রকিব তুহিন। এ ছাড়া সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন সদ্য বিদায়ী সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রোকসানা বেগম।
বিএনপির সর্বশেষ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম মঙ্গলবার মনোনয়ন পত্র জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে সোমবার কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম বলেন, ‘এলাকার মানুষ তো আমাকে ছাড়ছে না। আমি এখানকার দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর। আর কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয় না। কী করবো এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। কাল দেখা হবে।’
প্রার্থী হচ্ছেন জানিয়েছে বিএনপি নেতা ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, ‘আমি এবারও প্রার্থী হচ্ছি। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিকুল হাদী বলেন, দল নির্বাচনে যাবে না। তবে এলাকাবাসীর চাপে আমি প্রার্থী হয়েছি।
বিএনপি নেতাদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘বিএনপি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনেই যাবে না। আমরা এখন সরকার পতনের আন্দোলনে আছি। আমাদের প্রত্যাশা কাউন্সিলর পদে বিএনপির দায়িত্বশীল কেউ প্রার্থী হবেন না।’
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জুন ইভিএমে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে।
আপনার মন্তব্য