২৯ জুলাই, ২০২৩ ১৯:১৭
এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তবে এসএসসির চেয়েও খারাপ হয়েছে দাখিল পরীক্ষার ফল। এ বছর সিলেট বিভাগে পাসের হার শতকরা ৭৬ দশমিক ৬। জুড়ী উপজেলায় মোট পাসের হার এসএসসিতে প্রায় ৬৭শতাংশ। দাখিলে মাত্র প্রায় ৩৮ শতাংশ ।
উপজেলার মধ্যে ফলাফলের দিক দিয়ে ১ম স্থান অর্জন করেছে হাজী সোনা মিয়া আপ্তাবুন নেছা বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের মোট ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৪ জন। অন্যদিকে সর্বনিম্ন পাস করেছে কচুরগুল উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের ৬৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ২৫ জন। পাসের হার মাত্র ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ।গত বছর এই পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ২২ শতাংশ।জুড়ী উপজেলার ৮ টি মাদ্রাসার মোট পাসের হার শতকরা প্রায় ৩৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭৪ শতাংশ।
ফলাফলের দিক দিয়ে ৬০ দশমিক পয়েন্ট পেয়ে ১ম স্থানে রয়েছে নওয়া বাজার আহমদিয়া ফাযিল মাদ্রাসা, এ মাদ্রাসার ৬৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৩৯ জন।
সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে এম এ মুছাওয়ির দাখিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানের ১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন পাস করেছে।
২২ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শতকরা ৫০ পার্সেন্টের নিচে রয়েছে ৪ টি বিদ্যালয় এবং ৮ টি মাদ্রাসার মধ্যে শতকরা ৫০ পার্সেন্টের এর নিচে রয়েছে ৬ টি মাদ্রাসা। বিদ্যালয়ের চেয়ে দাখিল মাদ্রাসা গুলোর ফলাফলের এ বিপর্যয়ের কারনগুলো খতিয়ে দেখতে শিক্ষা বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন অনেকে। ফলাফলের এ করুন অবস্থার কারনে ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষকদের দায়ী করেছেন বেশির ভাগ অভিভাবক। পাশাপাশি যে কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে সে সকল বিদ্যালয়ের ও ম্যানেজিং কমিটি এবং শিক্ষককদের নিয়ে সমালোচনা করছেন অভিভাবকরা।
নওয়া বাজার আহমদিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অভিভাবক শাহ মোয়াজ্জেম রুবেল বলেন, এ বছর উপজেলার মাদ্রাসা গুলোর ফলাফল হতাশাজনক হলে ও আমাদের নওয়া বাজার মোটামোটি ভালো করেছে। ফলাফল ভালো না হওয়ার পেছনে শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীদের গাফলতিকে দায়ি করেন তিনি।
পাতিলা সাঙ্গন উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক পরিবারের সদস্য শাহরিয়ার মাহবুব বলেন, এ বিদ্যালয়ের রেজাল্ট আগে এত খারাপ হয়েছিল বলে মনে হয় না।
জাকারিয়া মাহবুব নামের একজন বলেন, আমরা যখন এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করি তখন তেমন সুযোগ সুবিধা ছিল না।তারপর ও রেজাল্ট ভালো ছিল।এখন আধুনিক সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকার পর ও রেজাল্ট খারাপ হওয়া দুঃখজনক।
সাইফুল্লাহ নামের একজন বলেন, যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের জবাবদিহি প্রয়োজন। চেয়ার নিয়ে কামড়া কামড়ির কারনে এখন শিক্ষার এ হাল।
সাগরনাল সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র মাও সালা উদ্দিন বলেন, প্রিয় প্রতিষ্ঠানের এই অবণতি দেখে দুঃখ লাগে। গত বছর ফলাফল খারাপ হওয়ার কারনে আমি ফেসবুকে পোস্ট দিলে ম্যানেজিং কমিটি এবং শিক্ষকদের অপমান হয়েছে বলে আমাকে ক্ষমা চাইতে হয়েছে।
সাগরনাল সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল করিম বলেন, গত বছরের পরীক্ষার হলে খুব কড়াকড়ি ছিল।শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভালো করে লিখতে পারে নি। শুধু মাত্র আমার মাদ্রাসার ৬৪ জন শিক্ষার্থী গনিতে ফেল করেছে।
পাতিলাসাঙ্গন উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামীম আহমদ বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কম ফেল করেছে, অন্য দুইটি নন স্বীকৃতি প্রাপ্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমাদের বিদ্যালয়ের নামে পরীক্ষা দেয় তারা বেশি ফেল করায় আমাদের বিদ্যালয়ের বদনাম হয়েছে।
হযরত শাহ খাকী( রঃ) আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও মাদ্রাসা পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মাও ইয়াকুব আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন লেখাপড়া করতে চায় না।মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এক বিষয়ে ফেল করেছে। আবার অনেকে এমসিকিউ এর উত্তর সঠিক ভাবে পূরন করতে না পারায় এ অবস্থা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো আলা উদ্দিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিদ্যালয় গুলোর ফলাফল ভালো হলে ও মাদ্রাসাগুলোর ফলাফল হতাশাজনক হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিয়ে দুই -চার দিনের মধ্যে সভা করবো। তাছাড়া মাদ্রাসাগুলোতে গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান বিষয়ে চর্চা কম হয়। এই বিষয় গুলোতে তাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আপনার মন্তব্য