০৩ অক্টোবর, ২০২৩ ২০:২৯
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ২০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ নিয়ে কলাগাছের তন্তু দিয়ে কলাবতী শাড়ি বুননের কৌশল শিখলেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৩০ নারী। তারা সবাই এখন নিজেরাই কলাবতী শাড়ি বুনন করতে পারেন।
সম্প্রতি কলাগাছের তন্তু দিয়ে শাড়ি বুনন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রাধাবতী দেবী নামের এক নারী। কলাগাছের ‘কলা’ আর রাধাবতীর ‘বতী’ শব্দ জোড়া দিয়ে পরে শাড়ির নাম দেওয়া হয় ‘কলাবতী’ শাড়ি।
গত শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ নারীর হাতে সনদ তুলে দেন অতিথিরা। সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন। প্রধান অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান।
এর আগে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের আয়োজনে গত ১১ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গলের ডলুছড়া গ্রামের ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর নারীদের নিয়ে ২০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে কলাগাছ থেকে সংগ্রহ করা সুতা দিয়ে শাড়ি বুননের কলাকৌশল শেখানো শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত কলাবতী শাড়ির উদ্ভাবক রাধাবতী দেবী ও এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা সালেহা বেগম ৩০ নারীকে কলাবতী শাড়ি তৈরির প্রশিক্ষণ দেন। ২০ দিনের প্রশিক্ষণে কলাবতী শাড়ি বুননের কৌশল শিখেছেন তাঁরা।
প্রশিক্ষক ও কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বান্দরবানের একধরনের কলাগাছ থেকে মেশিনের মাধ্যমে প্রসেসিং করে পাটের মতো লাসা বানানো হয়। তা থেকে খুব কষ্টে একটি একটি সুতা বের করে চরকিতে নেওয়া হয়। পরে ছোট লাঠি বা পাইপের মধ্যে সুতাগুলো রুলিং করা হয়। এই রুলিং করা সুতা দিয়েই তাঁতের মধ্যে শাড়ি বুনন করা হয়। প্রতিটি শাড়ি তৈরি করতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগে। খরচ পড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রিয়াঙ্কা দেবী বলেন, ‘আমরা শাড়ি বুননের কাজ পারতাম। এখানে ২০ দিন ট্রেনিং নিয়ে কলাগাছের সুতা দিয়ে শাড়ি বুনন শিখলাম। এখন আমরা নিজেরাই শাড়ি বুনন করতে পারব। যেহেতু শাড়ি তৈরির সরঞ্জামের খরচ বেশি, তাই আমাদের আর্থিক অনুদান প্রয়োজন।’
কলাবতী শাড়ির উদ্ভাবক রাধাবতী দেবী বলেন, ‘আমি এই কলাবতী শাড়ি তৈরি করতেম ৩০ জনকে শেখালাম। তাঁরা এখন নিজেরা এই শাড়ি বুনন করতে পারবেন। অনেক মানুষকে শেখাতে পারবেন বলে আমি মনে করি।’
ইউএনও আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই কলাবতী শাড়ির স্বীকৃতি দিয়েছেন। বান্দরবানের পর শ্রীমঙ্গলে প্রশিক্ষণ হওয়ায় আমরা গর্বিত। আশা করি, যে ৩০ জন নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁরা স্বাবলম্বী হবেন।
আপনার মন্তব্য