রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর

১০ অক্টোবর, ২০২৩ ২৩:২০

ড্রেনের অভাবে দুর্ভোগ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের বাসুদেববাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের একটি নালার অভাবে সামান্য বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নালা নির্মানের জন্য এলাকাবাসী দাবি জানিয়ে এলেও পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় তা হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নালা নির্মান না করে কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নালা নির্মান করারও।

ভুক্তভোগী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান,জগন্নাথপুর পৌর শহরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বাসুদেব বাড়ি আবাসিক এলাকা একটি জনবসতিপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এ ওয়ার্ডে উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরগুলো অবস্থিত। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দুটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। দ্বাদশ শতাব্দীর স্মৃতি বিজড়িত  বাসুদেব মূর্তিকে ঘিরে বাসুদেব মন্দির রয়েছে এলাকার প্রাচীন কৃষ্টি সংস্কৃতির অপূর্ব নিদের্শন হিসেবে। কিন্তু বাসুদেব বাড়ির প্রবেশমুখের খালটি ভরাট হওয়ায় পানি  বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া খালের মুখে দুই পাশে ময়লা  আবর্জনার স্তূপের কারনে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।

বাসুদেব বাড়ির বাসিন্দা জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্র শিমুল চন্দ বলেন, ঘর থেকে বের হয়েই বৃষ্টির দিনে নোংরা পানিতে পা ভিজিয়ে বের হতে হয় আর রোদের দিনে ময়লা আবর্জনার দুগগ্ধ শুকতে হয়। বছরের পর বছর যেন এসব দেখার কেউ নেই।

বাসুদেব বাড়ি বাসিন্দা ব্যবসায়ী গোপাল বনিক বলেন, একটি ড্রেনের জন্য আমরা বারবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নালার কাজ হতে দেখা গেছে। আমাদের এলাকা বঞ্চিত। অথচ আমার শতভাগ নাগরিক পৌরকর নিয়মিত যাচ্ছি।

জগন্নাথপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা দায়িত্বকালীন সময়ে নালা নির্মানের কোনো প্রকল্প না থাকায় তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।

বর্তমান কাউন্সিলর কৃষ্ণ চন্দ্র চন্দ জানান, আমি নির্বাচিত হাওয়া পর থেকে অসংখ্যবার পরিষদের সভায় মেয়রকে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলে যাচ্ছি।

জগন্নাথপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী আবদার রব সরকার বলেন, আমি নিজে সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি বাসুদেববাড়ি এলাকার নালা নির্মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আমরা পৌর শহরে ঠিকাদারের মাধ্যমে নালা নির্মানকাজ বাস্তবায়ন করছি। তবে পৌরসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা মেয়রের মধ্যেমে প্রকল্পের জায়গা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। তাঁদের তালিকার পরিপ্রেক্ষিতে কাজ চলছে।

জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন বলেন, নালা নির্মানকাজের ঠিকাদার কাজে গাফিলতি করছে। গুরুত্ব বিবেচনায় সব কাজ করার চেষ্টা করছি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত