জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ

১৪ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৭:২৪

বিশ্বনাথে আইনশৃংখলার অবনতি, জনমনে আতঙ্ক

বিশ্বনাথে গুপ্তহত্যা, চুরি-ডাকাতি দিনদিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বনাথে আ’লীগ নেতার বাড়িতে ডাকাতির পর এবার ছনখাড়িগাঁও গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার রাত আড়াইটায় উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নরে ছনখাড়ি গাঁওয়ের ফয়জুর রহমানের বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতদল ফয়জুর রহমানের ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি সোমবার দিবাগত রাতে দেওকলস ইউনিয়ন আ’লীগ সহ-সভাপতি কজাকাবাদ গ্রামের মাষ্টার আলী আফসর চৌধুরীর বাড়িতে ডাকাতি হলে নগদ টাকা স্বর্নালংকারসহ প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার মালপত্র লুট হয়। গত ৩ জানুয়ারি রোববার দিবাগত রাতে খাজাঞ্চী ইউনিয়নের লালারগাঁও (কলা বাড়ি) গ্রামের প্রবাসী মফিজ আলীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৫লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয় ডাকাতদল।

গত দু’সপ্তাহে একাধিক সংঘর্ষ, গুপ্তহত্যা, চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। থানার নতুন ওসি আব্দুল হাই যোগদানের পর থেকে বিশ্বনাথে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে এমন মন্তব্য এখন মানুষের মুখেমুখে। হঠাৎ অপরাধ কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে যেমন আইনশৃংখলা বাহিনীকে ভিন্ন চোঁখে দেখা হেচ্ছ অন্যদিকে উপজেলার সর্বত্র চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।

বিশ্বনাথ থানার নবাগত ওসি আব্দুল হাই বলেছেন, এসব ঘটনার নেপথ্যে অনেক কাহিনী রয়েছে। তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ পর্যন্ত যে-ক’টা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে এর কোন ঘটনায়ই মামলা দেওয়া হয়নি। আর মামলা দেওয়া না হলে অপরাধীদের গ্রেফতারে তাৎক্ষনিক কোন পদক্ষেপও নেওয়া যাচ্ছে না। তবে শিগ্রই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিশ্বনাথের সার্বিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। সে জন্যে উপজেলার সুশিল সামজ ও সচেতন মহলের সহযোগীতাও কামনা করেছেন তিনি।

২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর থানার ওসি রফিকুল হোসেন অন্যত্র বদলি হলে নতুন ওসি আব্দুল হাই বিশ্বনাথ থানায় যোগদান করেন। এর পর থেকে বিশ্বনাথে আইনশৃংখলার চরম অবনতি দেখা দেয়। এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসেও একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকান্ড বৃদ্ধি পায়। আইনশৃংখলা বাহিনীর ধরপাকড় আর এলাকাবসী সোচ্ছার হওয়ায় তখন চুরি ডাকাতিসহ অপরাধ তৎপরতা অনেকটাই কমে যায়। বর্তমানে আবারও অপরাধীরা আইনের ফাকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে সংঘটিত হয়ে নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালাচ্ছে।

জানাগেছে, গত দু’সপ্তাহে বিশ্বনাথে ২টি গুপ্তহত্যাসহ ৩টি হত্যাকান্ডসহ একাধিক চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সকালে সালমান আহমদের (১৭) লাশ উদ্ধার করা হয়। উপজেলা সদরের নতুনবাজারস্থ একটি বাসার সামন থেকে পুলিশ ওই মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে। সালমান সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পূর্বগাঁও গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে এবং ওই মাদ্রাসার ফজিলত (জালালাইন) ১ম বর্ষের ছাত্র ছিল। এঘটনায় ২জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১৬সালের ৩জানুয়ারি উপজেলার রহমান নগর গ্রাম থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ আমেনা বেগম (২০) ওই গ্রামের রফিক আলীর স্ত্রী। এঘটনায়ও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি সিঙ্গেরকাছ এলাকা থেকে সালমান নামের ৬বছরের আরও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায়ও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এসব হত্যাকান্ডের মুল রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি ছয়ফুল হক, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন’র সাধারণ সম্পাদক মধু মিয়া সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘনঘন চুরি ডাকাতি, খুনের ঘটনায় উপজেলার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। অপরাধ নির্মূলে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে চুরি-ডাকাতি ব্যাপক হারে বাড়ার আশংকা রয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্যে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবিও জানিছেন তারা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত