নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর, ২০২৩ ১৮:৫৩

বিএনপির বিক্ষোভের মধ্যেই নিজ এলাকায় সমশের মবিন

রেরাবার রাতে গোলাপেঞ্জে শ্রীচৈতন্য মন্দিরের দুর্গাপূজা পরিদর্শন করেন সমশের মবিন চৌধুরী

একটি টকশোতে করা মন্তব্যের জেরে নিজ এলাকায় বিএনপির তোপের মুখে পড়েছেন ‘তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ারপারসন সমশের মবিন চৌধুরী। তাকে নিজের নির্বাচনী এলাকা গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে ‘অবাঞ্ছিত’ও ঘোষণা করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এনিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই নিজ এলাকায় এসেছেন সাবেক এই বিএনপি নেতা।

রোববার (২২ অক্টোবর) রাতে তিনি গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।

বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সমশের মবিন চৌধুরীর বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জে। গত নির্বাচনের আগে তিনি বিকল্পধারায় যোগ দেন। এবার আরেকটি নির্বাচনের আগে ‘তৃণমূল বিএনপি’র চেয়ারপারসন হয়েছেন সমশের।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি একটি টেলিভিশন আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের স্থানীয় বিএনপি এবং দলটির নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী সম্পর্কে নানা মন্তব্য করেন সমশের মবিন। তার এমন মন্তব্যকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে গত ১৬ অক্টোবর গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সভা করেছেন তারা। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীরা সমশের মবিন চৌধুরীকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

এছাড়া সমশের মবিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত শনিবার (২১ অক্টোবর) সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সমশের মবিনকে ‘দলছুট, বিশ্বাসঘাতক, নীতিহীন ও পথভ্রষ্ট’ আখ্যা দেন।

সংবাদ সম্মেলনের একদিন পরই নিজ এলাকায় এসেছেন সমশের মবিন। তিনি রোববার রাতে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ এলাকার শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এসময় সমশের মুবিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সবসময় অসাম্প্রদায়িক। এদেশে কোন ভেদাভেদ নেই। জাতি ধর্ম বর্ণ কোন বিভাজন নেই। এদেশ হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সকলের রয়েছে সমান অধিকার। এদেশ হলো সকল মানুষের দেশ।

তিনি বলেন, আমি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা। অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছি। জীবন বাজি রেখে এদেশ স্বাধীন করেছি।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন ‘তৃণমূল বিএনপি’র সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক এম এ হান্নান, গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক সানাউল হক। এরপর তিনি ভাদেশ্বর খমিয়াপাতন পূজামণ্ডপ ও বিয়ানীবাজারের কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, গত দুটি সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ (সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকা ও সদর উপজেলা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল সমশের মবিন চৌধুরীর। শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে এখানে বিএনপির প্রার্থী করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে দেখা দেয় মতবিরোধ। হতাশ হয়ে পড়েন সমশের মবিন চৌধুরী ও তাঁর অনুসারীরা।

২০১৫ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে যোগ দেন বিকল্পধারায়। সেখান থেকে যান তৃণমূল বিএনপিতে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে তৃণমূল বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সে কাউন্সিলে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পান সমশের মবিন চৌধুরী।

কাউন্সিলের পর গত ১২ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ‘তৃণমূল বিএনপি’ ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানান দলটির চেয়ারপারসন সমশের মবিন চৌধুরী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত