২৬ অক্টোবর, ২০২৩ ১৬:৩৭
সিলেট-তামাবিল জাফলং মহাসড়ক তীব্র যানজটে নাকাল পথচারীসহ মানুষ। মহাসড়কে অবস্থিত জৈন্তাপুর উপজেলার চারটি বাজার এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে ট্রাক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা স্ট্যান্ড।
প্রতিদিনেই ব্যস্ততম সড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা, সারিবদ্ধভাবে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যাওয়া এবং সড়কের-ফুটপাত দখল করে সবজি বিক্রয়ের কারণে যানজট এখন নিত্য দিনের সঙ্গী। তবে গড়ে ওঠা ১২ টি অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো সরাতে আগ্রহ নেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।
উপজেলা সদর এবং অন্যান্য এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ব্যস্ততম মহাসড়কটিতে ট্রাক, অটোরিকশা ও লেগুনার অঘোষিত স্ট্যান্ড বসিয়ে চলছে তাদের রাজত্ব। প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে আসা লোকজন সহ ৬ টি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ পর্যটন কেন্দ্র জাফলং ভ্রমণ করতে আসে।
এছাড়া জাফলং ও তামাবিল স্থল বন্দর থেকে অনেক যানবাহন এই সড়ক দিয়ে পাথর, কয়লা সহ নানা পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। কিন্তু সড়কের দুই পাশের অবৈধ ট্রাক, লেগুনা ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড থাকায় বাকি অর্ধেক দিয়ে যান চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। এতে অকালে প্রাণ হারানো সহ পঙ্গুত্ববরণ করছেন যাত্রী ও পথচারীরা।
জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল বাজার, হরিপুর বাজার ব্রিজ থেকে শুরু করে তারু মিয়া হাঠির দোকান পর্যন্ত, দরবস্ত বাজার মসজিদ থেকে শুরু করে কানাইঘাটি সড়ক পর্যন্ত, জৈন্তাপুর স্টেশন বাজার, ৪নং বাংলা বাজার মহাসড়কের ওপর জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শতাধিক ট্রাক, নাম্বার বিহীন অটোরিকশা, পিকআপ ও লেগুনা। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে উঠানামা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
দরবস্ত ও হরিপুর বাজারে দুর্ঘটনা এ পর্যন্তÍ প্রায় ৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বেপরোয়া গতির গাড়ি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিশেষ করে হরিপুর ও দরবস্ত বাজার এলাকা বেশি দুর্ঘটনা প্রবণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলাকার স্থানীয়রা হাইওয়ে থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, হাইওয়ে থানার ওসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যস্ততম এই মহাসড়কের ওপর থেকে অবৈধ স্ট্যান্ড সরানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন না। মানুষ আর পুরনো কথা বলতে চান না, তারা চান এর দ্রুত সমাধান। উপজেলা হরিপুর বাজারে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন যানবাহনের পাঁচটি স্ট্যান্ড। সড়কের ওপরে স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় এ জায়গাটুকু যেতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এতে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীসহ এলাকাবাসী।
পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কের হরিপুর বাজার থেকে ৭০টির বেশি অটোরিকশা ফতেহপুর বাজার সড়কে চলাচল করে। ৬০ টির মতো লেগুনা সদর উপজেলা থেকে সিলেট শহর পর্যন্ত যাত্রী বহন করে। ৪০টরি মতো নাম্বার বিহীন পিকআপ চোরাই ভারতীয় পণ্য সহ বিভিন্ন পণ্য আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া হরিপুর বাজার সংলগ্ন তারু মিয়ার দোকানের সামনে মহাসড়কের দুই পাশ জুড়ে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে অর্ধ শত ট্রাক। মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতশত গাড়ি চলাচল করে। হাজার হাজার মানুষ এ পথের যাত্রী। সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড ও এলোপাথাড়ি চলাচল এবং যাত্রী উঠানামার কারণে এসব মানুষের দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী। আমরা এর সমাধান চাই।
দুর্ঘটনায় অকালে পা হারানো দরিদ্র পথচারীরা মোহাম্মদ আলী বলেন, গত মে মাসে দুপুরের সময় হরিপুর তারু মিয়ার দোকানের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। সড়কের দুই পাশে ট্রাক থাকায় একটি মাইক্রোবাস দ্রুত এসে বন্ধ ট্রাকে ধাক্কা দিলে ট্রাকটি আমার উপর উঠে যায় এতে আমার এক পা চিরতরে হারিয়ে ফেলি। আমি দরিদ্র মানুষ সংসার চালাতে এখন খুব কষ্ট হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জটলা পাকানো ট্রাক, অটোরিকশার চালকরা বলেন, মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা দখল করে নিয়েছে দোকানিরা। আমরা এখন কোথায় গাড়ি রাখবো। তাই মহাসড়কেই গাড়ি পার্কিং করে রাখি।
তামাবিল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহিদ হাসান এই বিষয়ে বলেন, মহাসড়কের ওপর জটলা পাকিয়ে গাড়িগুলো রাখা হচ্ছে। এতে নিয়মিত যানজট লেগেই থাকে। হাইওয়ে পুলিশ জনগণকে সচেতনতা করার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আর এই থানাটি নতুন উদ্বোধন হয়েছে আস্তে আস্তে সব টিক হয়ে যাবে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক সদস্য দেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কে স্ট্যান্ড করে সারিবদ্ধভাবে গাড়ি না রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললেও তারা কোন কথা শুনতে চায় না। জানমালের নিরাপত্তা ও জনভোগান্তি লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা সড়ক ও জনপদ (সওজ) এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন এর মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও মোটফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
আপনার মন্তব্য