নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ নভেম্বর, ২০২৩ ২৩:৫৬

অন্য পাঠাগারের বই এনে শহীদ মিনারের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রহশালা উদ্বোধনের উদ্যোগ!

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রহশালা ও পাঠাগার উদ্বোধন হবে আজ

২০১৪ সালের সিলেটের নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধনের সময়ই  এখানে মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রহশালা ও পাঠাগার চালু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এরপর আরও নয় বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি এ সংগ্রহশালা ও পাঠাগার।

নয় বছর এটি ফেলে রাখার পর এখন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিদায়লগ্নে তড়িঘড়ি করে উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত সংগ্রহশালা ও পাঠাগার প্রস্তুতই হয়নি। উদ্বোধনের জন্য সিটি করপোরেশন পরিচালিত পীর হবিবুর রহমান পাঠাগারের  বই এনে শহীদ মিনারের এই পাঠাগারে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া সংগ্রহশালায় নেই মুক্তযেুদ্ধের আর কোন স্মৃতিচিহ্ন বা দলিল।

শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবুল মোমেন এই পাঠাগার ও সংগ্রহশালা উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের ভেতরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মেয়রের নাম লেখা নামফলক বসানো হয়েছে।

এদিকে, প্রস্তুত হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে শহীদ মিনারের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রহশালা ও পাঠাগার উদ্বোধনের উদ্যোগে সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ২২ ফেরুয়ারি ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি মিছিল থেকে ভাঙচুর করা হয়েছিলো সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এরপর নতুন রূপে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। সে সময় শহীদ মিনারের ডান দিকে মাটির নিচে তিন হাজার স্কয়ার ফুট জায়গায় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, স্মৃতিচিহ্ন, আলোকচিত্র সম্বলিত একটি সংগ্রহশালা ও পাঠাগার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো।

নির্মাণ কাজ শেষে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন করা হয় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। তবে এরপর আর সংগ্রহশালা ও পাঠাগার চালু হয়নি।

শুক্রবার বিকেলে শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সংগ্রহশালা ও পাঠাগার উদ্বোধনের জন্য শেলফে বই সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। প্রতিটি বইয়েই ‘পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার’-এর সিলমোহর দেওয়া রয়েছে।  এছাড়া সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, স্মৃতিচিহ্ন, আলোকচিত্র রাখার কথা থাকলেও এসবের কিছুই দেখা যায়নি।

শহীদ মিনারে বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেট। তবে এখানকার পাঠাগার ও সংগ্রশালা উদ্বোধনের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি রজতকান্তি গুপ্ত।

তিনি বলেন, পাঠাগার ও সংগ্রহশালাটি চালুর দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এটি এতোদিন চালু করা হয়নি। এখন এটি উদ্বোধনের জন্য একটি নামফলক বসানো হয়েছে বলে আমাকে অনেকে জানিয়েছেন, কিন্তু সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের যে স্মারকগুলো থাকার কথা তার কিছুই আনা হয়নি। যে বইগুলো আনা হয়েছে তাও আরেকটি পাঠাগারের।    

রজত বলেন, প্রস্তুত না করেই কেন এখন এটি চালু করা হচ্ছে? কেবল  নামফলক বসানোর জন্য এটি উদ্বোধন করা হলে তা হবে প্রতারণার শামিল।

তড়িঘড়ি করে উদ্বোধনের ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, এই পাঠাগার ও সংগ্রহশালা চালুর জন্য যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো তারা এর কাজ শেষ করতে পারেননি। এখন এটি এভাবে ফেলে রেখেও তো কোন লাভ হচ্ছে না। তাই আমরা এটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। চালু করার পর আস্তে আস্তে সব জিনিসপত্র আনা হবে।

অন্য পাঠাগারের বই আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পীর হবিবুর রহমানের কিছু বই এখানে আনা হয়েছে, কিছু বই সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দান করেছিলেন, এছাড়াও আরও কিছু বই এখানে রাখা হয়েছে। আরও বই সংগ্রহ করা হবে। এরপর পীর হবিবুর রহমান পাঠাগারের বই সরিয়ে নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সিসিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উদ্যোগে সিলেট সিটি করপোরেশন ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ শহীদ মিনারটি পুনর্নির্মাণ করে। নবনির্মিত শহীদ মিনারের নকশাটি করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শুভজিত চৌধুরী।

‘চেতনায় আন্দোলিত ভূমি থেকে জেগে ওঠা বাঙালির আবহমান সংগ্রামী ঐতিহ্য’-এই মূল থিম (বিষয়বস্তু) ধরে সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

শহীদ মিনার এলাকায় ৩৩ শতাংশ জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ৮ শতাংশ জায়গার মধ্যে শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছে। মূল স্তম্ভের পাশাপাশি শহীদ মিনারে রয়েছে মুক্তমঞ্চ ও মহড়াকক্ষ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত