নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ নভেম্বর, ২০২৩ ২৩:৪১

সিলেটে চুরির পর নারায়ণগঞ্জেও বুথ থেকে টাকা চুরি করেন আমিনুল

সিলেটে বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন জন

সিলেটের ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুরির সঙ্গে জড়িত এক সদস্য নারায়ণগঞ্জের ইসলামী ব্যাংকের আটটি বুথ থেকে আরও ৯ লাখ টাকা চুরি করেছেন। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেটি টের পায়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন বুথের লকার থেকে টাকা উঠিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বুঝে ওঠার আগেই আবার বুথে টাকা জমা দিত একটি চক্র।

বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় কয়েক দিনে পুলিশ তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন সিকিউরেক্স কোম্পানির এটিএম বুথ অফিসার আলবাব হোসেন (২২), একই কোম্পানির আমিনুল হক (২৮) ও সিলেটের মোগলাবাজারের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ওরফে মুন্না (২৫)।

তাদের মধ্যে আমিনুলকে ঢাকার সিকিউরেক্স কোম্পানির কার্যালয় থেকে ও নুরুল ইসলামকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয় আলবাবকে।

তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট নগরের আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ।

সংবাদ সম্মেলনে আজবাহার আলী শেখ বলেন, গত ২৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৫ থেকে ১২টা ১৫ মিনিটের মধ্যে সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকার ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের বুথ থেকে ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় ৩ নভেম্বর বুথের টাকা সরবরাহ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরেক্স প্রাইভেট কোম্পানির সিলেট জোনের এটিএম ইনচার্জ সন্দীপন দাস বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। এর পরপরই কোম্পানির এটিএম বুথ অফিসার আলবাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার জকিগঞ্জে আলবাবের বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয় ও নুরুল ইসলামকে আটক করা হয়। নুরুলের কাছ থেকেও প্রায় আট লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার মতিঝিল এলাকার সিকিউরেক্স কোম্পানির কার্যালয় থেকে আমিনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজবাহার আলী শেখ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে এটিএম বুথ ও নগদ অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা তারা খরচ করে ফেলেছেন।

তিনি জানান, মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেছে। সে সঙ্গে টাকাও উদ্ধার করেছে। মূলত এটিএম বুথের লকারের পাসওয়ার্ড একই ব্যক্তির কাছে থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমিনুল হক এটিএম ইনচার্জ হওয়ায় বিভিন্ন বুথের লকারের পাসওয়ার্ড তার কাছে ছিল। টাকা চুরির দিন এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরী মনে করেছিলেন অফিস থেকে তারা কাজের জন্য গিয়েছেন। প্রায়ই তারা বুথে যাওয়া আসা করায় তিনি তাঁদের চেনেন। এ জন্য তিনি সন্দেহ করেননি।

আজবাহার আলী শেখ বলেন, সিলেটের বুথ থেকে টাকা চুরির পর আমিনুল হক নারায়ণগঞ্জের ইসলামী ব্যাংকের আরও আটটি বুথ থেকে লকারের পাসওয়ার্ড দিয়ে আরও ৯ লাখ টাকা উঠিয়েছেন। সেগুলোও তিনি খরচ করে ফেলেছেন। সে বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টের পায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীর, সিলেট বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন ও পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দে।

গত ২৮ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকার ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। পরে ৩০ অক্টোবর বুথে ‘ক্যাশ জ্যাম’–সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে বুথে গিয়ে ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার হিসেবে গরমিল পায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বুথে টাকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিকিউরেক্স প্রাইভেট লিমিটেডের দুই কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে মামলা করেন ব্যাংকটির সিলেট অঞ্চলের এটিএম বুথের ইনচার্জ সন্দীপন দাস।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৬ মিনিটে ওই বুথে মাথায় ক্যাপ, মুখে মাস্ক, চোখে কালো চশমা ও হাতে গ্লাভস পরা দুই ব্যক্তি সুবিদবাজার এলাকার এটিএম বুথে প্রবেশ করেন। বুথের আশপাশে নিরাপত্তাপ্রহরী উপস্থিত ছিলেন না। ওই দুই ব্যক্তি বুথের ভেতরে প্রবেশ করেন। সে সময় একজন বুথের নিচের দিকের অংশ খোলেন এবং অন্যজন তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে নিরাপত্তাপ্রহরীকে বুথের সামনে উপস্থিত হতে দেখা যায়। ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তির দিকে উঁকি দেন। ভেতরে থাকা এক ব্যক্তিকে নিরাপত্তাপ্রহরীকে শাটার নামানোর জন্য ইশারা দিতে দেখা যায়। পরে নিরাপত্তাপ্রহরী শাটার নামিয়ে দেন। একপর্যায়ে ওই দুই ব্যক্তি বুথের লকার খোলে ভল্ট নামিয়ে সেখান থেকে টাকা নিয়ে নিজেদের ব্যাগে ভরেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত