তাহিরপুর প্রতিনিধি

১৩ নভেম্বর, ২০২৩ ২২:১৪

ঝুঁকির মুখে টাঙ্গুয়ার হাওরের করচ গাছ

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী হাউজ বোড ও নৌকার অবাধ বিচরণে ও পর্যটকদের অসচেতনতার কারনে ঝুঁকির মুখে শতশত করচ গাছ। হাওরের কান্দায় লাগানো গাছের মধ্যে দিয়ে বর্ষায় সময় হাউজবোড ও নৌকা গাছে বেঁধে রাখার সময় ক্ষতবিক্ষত হয় গাছ। এছাড়া গাছের গোড়া থেকে মাটি সরে যাওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে যাচ্ছে শতাধিক করচ গাছ।

হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মিজানুর রহমান রাসেল বলেন, হাওরের গাছ বিলিন হলে প্রকৃতি ও পরিবেশ হুমকি মুখে পড়বে দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার। হাওরের প্রকৃতি, সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে গাছগুলো রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।

হাওর ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দা আহমেদ কবির তিনি সহ হাওর পাড়ের কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়,বর্ষায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রকৃতি ও পর্যটকদের আগমনে ভরপুর হয়ে যায় টা্গুয়ার হাওর। তারা হাওরে আসেন হাউজ বোড ও নৌকায়। আর পর্যটক  পরিবহনকারী যানবাহনগুলো হাওরে এসেই করচ গাছে নৌকা নোঙর করেন। এতে প্রচন্ড আঘাত লাগে গাছে।

 এছাড়া পর্যটকরা এসেই গাছে উঠে লাফিয়ে পানিতে পড়ে। গাছের গোড়ায় গোসল করে। এতে করে মাটি নরম হয় আর পানি কমে গেলেই গাছগুলো দুর্বল হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী হাউজ বোড, নৌকার বিচরণ সীমাবদ্ধ ও  আগত পর্যটকদের নির্ধারিত এলাকা চিহ্নিত করে দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাদার ফিসারিজ খ্যাত টাংগুয়ার হাওর স্থানীয় লোকজনের কাছে নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত ও প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট, প্রথমটি সুন্দরবন। ১৮টি মৌজায় ৫১টি হাওরের সমন্বয়ে ৯,৭২৭ হেক্টর এলাকা নিয়ে হাওরটি জেলার সবচেয়ে বড় জলাভূমি। পানিবহুল মূল হাওর ২৮ বর্গকিলোমিটার,বাকি অংশ কৃষিজমি ও ৬৮টি গ্রামের মানুষ বসতি। ১৯৯৯ সালে সরকার এই এলাকাকে বিপন্ন প্রতিবেশ এলাকা ও ২০০০ সালে ইউনেস্কো রামসার এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। এই হাওর বিরল প্রজাতির মাছ ও অতিথি পাখির স্বগরার্জ্য হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। পৃথিবী ব্যাপী অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন ২৬ প্রজাতির প্রাণির আবাসস্থল এই হাওরে। তবে এ হাওর এখন আর আগের মত নেই।

টাংগুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা শামিম মিয়া জানান, টাঙ্গুয়ার হাওর থাকা শতশত করচ গাছ আগত পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। সেই গাছগুলো সামান্য বাতাস আসলেই পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনই যদি গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে কান্দাগুলোকে সংরক্ষণ করে রাখা যায় তাহলে টাঙ্গুয়ার হাওরের শতশত গাছ রক্ষা পাবে। না হলে হাওরের পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। এমনিতেই হাওরে মাছ, পাখি ও গাছ নেই। দিন দিন হাওরের গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র।

সুনামগঞ্জ সহকারি বনসংরক্ষক নাজমুল আলম জানান, গাছগুলো রক্ষায় জন্য ও কি অবস্থায় আছে তা দেখার জন্য রেঞ্জ অফিসারকে পাঠাব। দেখে প্রয়োজনীয় কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

তিনি হাওরে আগত পর্যটক ও তাদের পরিবহনকারী হাউজ বোড ও নৌকা গুলোকে সচেতন হবার আহবান জানান।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানান, টা্গুয়ার হাওরে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। এই বিষয় খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত