২১ নভেম্বর, ২০২৩ ১১:৩৫
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও কবি ড. মোহাম্মদ সাদিক সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসন থেকে নির্বাচন করতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মোহাম্মদ সাদিকের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়।
মোহাম্মদ সাদিক তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম কেনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ড. মোহাম্মদ সাদিক দেশের সাংবিধানিক সংস্থা পিএসসির ১৩তম চেয়ারম্যান এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান।
কবি মোহাম্মদ সাদিক ১৯৫৫ সালে সুনামগঞ্জ জেলার ধারারগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০১৬ সালের ২ মে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ১৯৭৬ সালে বিএ (সম্মান) এবং ১৯৭৭ সালে এমএ পাশ করেন। মোহাম্মদ সাদিক যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৪-৯৫ সালে ‘পারসোনাল ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে পড়াশুনা করেন এবং পরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ‘সিলেটি নাগরী লিপির’ ওপর তার গবেষণার জন্যে ২০০৫ সালে ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
সিভিল সার্ভিসে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী কবি সাদিক সরকারের শিক্ষা সচিব ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক পদে দাযিত্ব পালন করেন। তিনি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নজরুল ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভিন্ন ভিন্ন পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সুইডেনের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব এবং কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কবি সাদিক বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির আজীবন সদস্য। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ও বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। কবিতায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ পান তিনি।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। তিনি জাতীয় পার্টি দলীয় এমপি।
১৯৭৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আসনটিতে তিন বার করে নৌকা ও ধানের শীষ এবং চার বার লাঙল মার্কার প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিজয়ী হন আবদুজ জহুর মিয়া। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ফজলুল হক আসপিয়া, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন।
২০০৮ সালের ভোটে বিজয়ী হন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির বেগম মমতাজ ইকবাল। তিনি লাঙল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৮৩টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফজলুল হক আসপিয়া ধানের শীষ নিয়ে পান ৫৮ হাজার ৯৬৪ ভোট। নির্বাচনের সাড়ে ৩ মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ১৭ এপ্রিল মমতাজ ইকবাল মারা গেলে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মতিউর রহমান এমপি হন।
২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ।
আপনার মন্তব্য