বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

০৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২৪ ২৩:০৭

বিয়ানীবাজারে গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা

সিলেটের বিয়ানীবাজারের গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। জমির মালিকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে এ বিষয় উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার ঘুঙ্গাদিয়া গ্রামের ৩নং ওয়ার্ডে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে চলমান একটি গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে এলাকার লোকজন নির্বিঘ্নে চলাচল করছিলেন। ওই রাস্তাটি সরকারিভাবে অন্তত ১৩-১৪ বার সংস্কার করা হয়। সম্প্রতি সংস্কারের প্রয়োজন না হওয়ার পরও ওই রাস্তাটি সংস্কারের নামে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এলজিএসপি) এর অধীন একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বাছিত।

তিনি গ্রামের পুরনো রাস্তাটি বন্ধ করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপর দিয়ে (তফশিল: জেলা: সিলেট, উপজেলা: বিয়ানীবাজার, মৌজা: ঘুঙ্গাদিয়া, জেএল নং ৯৩, খতিয়ান নং ৩৭৩, দাগ নং ২৪৮২, ২৪৮৩, ২৪৮৪ ও ২৪৮৫) বিকল্প রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। গ্রামবাসী পুরনো রাস্তা দিয়ে চলাচলের দাবি জানালে কৌশলী হয়ে ওঠেন ইউপি সদস্য বাছিত। তিনি মাপজোকের কথা বলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের চেইনম্যান আব্দুল ওদুদকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। ওদুদের বাড়িও একই গ্রামে এবং তিনি ইউপি সদস্যের নিকটজন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউপি সদস্য বাছিত এবং চেইনম্যান ওদুদ পরস্পর যোগসাজশে বহিরাগত লোকদের সহায়তায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপর থাকা সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন। এ সময় জমির মালিক ও তার স্বজনরা বাধা দিলেও তাদের প্রাণে হত্যার ভয়ভীতি দেখান ভাঙচুরকারীরা। জমির মালিকদের পক্ষে মাহমুদ হোসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এসব বিষয় উল্লেখ করে এবং রাস্তা নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, চেইনম্যান আব্দুল ওদুদ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে চাকরির সুবাদে এলাকার মানুষের জমিজমা আত্মসাৎ করে নিচ্ছেন। কাগজের সামান্য ভুলত্রুটির সুযোগ নিয়ে তিনি একটি ভূমিখেকো সিন্ডিকেটের সহায়তায় জমির মালিকানা পরিবর্তন করে অন্যকে পাইয়ে দিচ্ছেন। এমনকি সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন গোপন নথির কথা তিনি বাইরে প্রকাশ করে অনৈতিক উৎকোচ আদায় করছেন। জমির কাগজের ত্রুটি সংশোধনের কথা বলেও হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার-হাজার টাকা। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় ওদুদ বিরোধীয় দু’পক্ষের একপক্ষকে হাতে নিয়ে বিশেষ সুবিধা আদায় করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। নামজারি, খাজনা পরিশোধ, মাপজোক ইত্যাদি ক্ষেত্রেও তার প্রভাবিত হওয়ার খবর স্থানীয়দের মুখে-মুখে। প্রায় একযুগ থেকে তিনি এ অফিসে কর্মরত থাকায় নিজস্ব একটি বলয় তৈরি করেছেন।

এ বিষয়ে আব্দুল ওদুদ বলেন, তার বিরুদ্ধে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। স্থানীয় হওয়ায় লোকজন তার কাছে সেবা পেতে আসেন। যা অন্যদের সহ্য হচ্ছে না।

ইউপি সদস্য আব্দুল বাছিত জানান, এলাকাবাসীর প্রয়োজনে রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। ভোট না দেওয়ায় অন্যের জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযোগপ্রাপ্তির তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত