বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

১৫ মে, ২০২৪ ২২:০১

সমবায় কর্মকর্তা ও বিশ্বনাথ থানার এসআইয়ের শাস্তি দাবি

সিলেট জেলা সমবায় কর্মকর্তা চন্দন দত্ত্ব’র অপসারণ ও বিশ্বনাথ থানা পুলিশের এসআই অনিক বড়ূয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্বনাথের মাহতাবপুর মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরা।

বুধবার বিকেল ৫টায় বাজারের পাশ্ববর্তি একটি ‘বরফ মেইলের’ সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে মাহতাবপুর মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাজারের ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন।

নিজেকে মাহতাবপুর মৎস্য আড়ত পরিচালনা কমিটির সদস্য দাবি করে হেলাল উদ্দিন বলেন, মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে জেলা সমবায় কর্মকর্তা চন্দন দত্ত স্থানীয় কিছু দালালদের মাধ্যমে বড় অংকের উৎকোচ নিয়ে মাছের আড়তটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছেন। তার দীর্ঘদিনের অপকের্ম বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অতিষ্ট।

ওই দুর্নীতিবাজ সমবায় কর্মকর্তার একটি চিটির প্রেক্ষিতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের এসআই অনিক বড়ূয়ার নেতৃত্বে মঙ্গলবার (১৪ মে) সকাল ১১টারদিকে একদল পুলিশ মাছ বাজারে গিয়ে বেআইনীভাবে হামলা চালিয়ে তারেক আহমদ নামের এক ব্যবসায়ীর লীজকৃত দোকানঘর ভাংচুর করেন। বাঁধা দিতে চাইলে পুলিশ এলোপাতাড়ি হামলা করে। এসময় এসআই অনিকের লাটির আঘাতে ছদিক আহমদ, আবু মুছা, তারেক আহমদ নামের ৩জন ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। পরে আহতদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানকে সভাপতি ও  সামছুল হক মুল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করে যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে তা পূনর্বহাল রয়েছে। তার দবি, মহামান্য হাইকোর্টে ১২৮৮০/২২, রিট পিটিশন দায়ের করা হলে মহামান্য হাইকোর্ট একাধিকবার কমিটি গঠনে স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। এই স্থগিতাদেশ এখনও বলবৎ আছে। কিন্তু হাইকোটের নির্দেশ অমান্য করে জেলা সমবায় কর্মকর্তা চন্দন দত্ত রিটকারি প্রতিপক্ষের জমিরসহ ৩জনকে দিয়ে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেন। সমবায় কর্মকর্তা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করায় সুপ্রিমকোর্টের আপিলের ডিভিশনে রিট পিটিশন নং-১২৭০৫/২০২৩ দায়ের করলে শুনানী শেষে আদালত রিটকারিদের ১৫জন সদস্যকে কমিটির অন্তরভুক্ত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সমবায় কর্মকর্তা সুপ্রিমকোটের নির্দেশ মানতে নারাজ। তিনি ৫লাখ টাকা ঘোষ দিলে ১৫জনকে কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করবেন বলে জানান। তার এ দাবি অমান্য করায় সমবায় কর্মকর্তা বিশ^নাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসিকে আড়তের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার চিঠি দেন।
 
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত ২৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে এসআই অনিক বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামসুল হককে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে এসে কোন মামলা ছাড়াই ১৬ঘন্টা আটক রাখেন এবং ১লাখ টাকা ঘোষ নিয়ে ছেড়ে দেন। তার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ ছাড়া পুলিশ কারো দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ বা ভাংচুর করতে পারেননা। এসআই অনিক দোকান ভাংচুর করে ২লাখ টাকা ক্ষতি সাধন করেছেন। প্র্রতিপক্ষের কাছ থেকে ঘোষ গ্রহণ করে বেপরোয়া হয়ে মারপিট কেেরছন। এতে এলাাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সমবায় কর্মকর্তা চন্দন দত্তের অপসারণ ও এসআই অনিকসহ দায়ি পুলিশদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।

তবে, সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেছেন সিলেট জেলা সমবায় কর্মকর্তা চন্দন দত্ত। তিনি বলেন, কোন উচচ আদালতের আদেশ অমান্য করার কোন সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের কোন আদেশও বহাল নয়। যা অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পনূ মিথ্যা ওবানোয়াট। তার মতে, মাছ বাজারের নতুন এডহক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদেও অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জকে আইনশৃংখলার বিষয়টি দেখে কমিটির খাতাপত্র উদ্ধারের জন্য তিনি চিঠি দিয়েছেন।

একইভাবে সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেছেন বিশ্বনাথ থানার এসআই অনিক বড়ূয়া। তিনি বলেন, সিলেট জেলা সমবায় কর্মকর্তা চন্দন দত্তের প্রেরিত একটি চিঠির আলোকে তিনি মাছ বাজারে গিয়ে খাতাপত্র উদ্ধার করার চেষ্টা করেছেন। কোন দোকানপাঠ ভাংচুর করেননি এবং কারো উপর হামলাও করেননি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত