২১ মে, ২০২৪ ১১:২৩
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দাসেরবাজার ইউনিয়নের রসগ্রাম এলাকার দরমাছা খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে অর্ধশত পরিবার দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় এক যুগ ধরে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য বাঁধ অথবা পথ তৈরি করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ দূর করতে স্থানীয় বাসিন্দা প্রবীণ মুরব্বি বদরুল ইসলাম প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে অর্ধশত পরিবারের চরম দুর্ভোগ লাগবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে ও লিখিত আবেদন সূত্রে জানা গেছে, দাসেরবাজার ইউনিয়নের রসগ্রাম এলাকার দরমাছা খাল দিয়ে একসময় নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের কয়েক গ্রাম ও দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার বর্ষার পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু গত প্রায় ১ যুগের বেশি সময় ধরে রসগ্রাম এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য কেউ সরকারি খালের জায়গা ভরাট করেছেন। কেউ কেউ কিছু ব্যক্তিগত ও কিছু সরকারি জায়গা দখল করে বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করেছেন। এতে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়। রাস্তা ও বাঁধের কারণে মাত্র ৫-৭টি পরিবার উপকৃত হলেও স্থানীয়ভাবে দুর্ভোগে পড়ে প্রায় ৫০টি পরিবার। ফলে বর্ষা মৌসুম ছাড়াও ওই এলাকার কৃষি জমিগুলোতে সারাবছরই জলাবদ্ধতা থাকে। এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশায় স্থানীয় বাসিন্দা প্রবীণ মুরব্বি বদরুল ইসলাম ২০১৯ সাল থেকে প্রশানের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে অর্ধশত পরিবারের চরম দুর্ভোগ লাগবে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সবশেষ বদরুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল বড়লেখার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর হোসাইন রসগ্রামের দরমাছা খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হওয়া সংক্রান্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে তিনি ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে গোয়ালটাবাজার-সুড়িকান্দি-রসগ্রাম-অদমপুর সড়কের উপযুক্ত স্থানে কালভার্ট (এলজিইডির) নির্মাণের সুপারিশ করেন। এতে করে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন হবে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রসগ্রাম এলাকার বাসিন্দা প্রবীণ মুরব্বি বদরুল ইসলাম বলেন, বাঁধের কারণে বর্ষায় মানুষের বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এছাড়া সারাবছরই কৃষি জমিগুলো জলাবদ্ধ থাকে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করতে আমি প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু কোনো সমাধান মিলছে না।
এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, রসগ্রাম এলাকার দরমাছা খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধের বিষয়টি ৬-৭ মাস আগে আমরা জেনেছি। স্থানীয় লোকজন গ্রামের ভেতরে খালে বাঁধ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। এই জলাবদ্ধতা দূর করতে এলজিইডির সড়ক দিয়ে কালভার্ড নির্মাণ করতে হবে। এলজিইডির সড়কটি অনেক বছর আগের তৈরি করা। আমরা জায়গাটি সরেজমিনে দেখেছি। রাস্তা সংস্কার কাজের সাথে এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য