০৭ জুন, ২০২৪ ০১:১৩
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের কামাররা। রাত-দিন হাট বাজার আর গলি মুখে তাদের হাতুড়ি-হেমারের টুং টাং শব্দে জানান দিচ্ছে ক’দিন পরেই ঈদ। আর সেই ঈদকে ঘিরে আশার আলো দেখছে কামার শিল্প। নাওয়া-খাওয়া ভুলে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন কামাররা। তৈরি করছেন কাটারি, ছুরি, চাকু, চাপাতি, দা, বটি।
আগামী ১৭ জুন (সোমবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও কামার পল্লীতে ব্যস্ত কামাররা। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি লোহা, স্টিলের যন্ত্রপাতির সামনে এমনিতেই নাজুক এই শিল্প সংশ্লিষ্টরা। সারা বছর কাজের চাপ না থাকলেও ঈদুল আজহার আগে কাজের চাপ বাড়ে। তাই কোরবানির মৌসুমেই তাদের সবচেয়ে বেশি কাজ হয়। তবে কয়লার দাম বেশি হওয়ায় অন্য বারের চেয়ে এবার ছুরি, দা, বোটির দাম কিছুটা বেশি বলে জানান কামাররা। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কামার শিল্প বিলুপ্তপ্রায়। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। উল্টো প্রযুক্তির দাপটে ক্রমেই মার খাচ্ছে এ শিল্প। তবু কামাররা বলছেন, বাপ-দাদার পেশা তাই এখনো ধরে রেখেছি।
এদিকে, কোরবানির পশুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে বা পুরাতন সরঞ্জামে শান দিতে ভুলছেন না মুসল্লিরা। এ জন্য ভিড় জমাচ্ছেন কামার পল্লীতে। অনেকে পছন্দ করে কিনছেন ছুরি, বটি দা, চাপাতি, হাঁসুয়া। সঙ্গে মাংস কাটার জন্য কাঠের গুঁড়িও কিনছেন অনেকে।
উপজেলার কামার পল্লীর বিভিন্ন দোকান ঘুরে জানা গেছে, প্রতিটি কাটারি বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, দা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কেজি হিসেবে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, ছোট ছুরি ১২০ থেকে ২৫০ টাকা। বড় ছুরি ১৬০০ থেকে ২২০০ এছাড়া বটি প্রতি পিস ১০০ থেকে ৩০০ টাকা।
ক্রেতাদের দাবি, এ বছর পশু কোরবানির উপকরণের দাম তুলনামূলক বেশি। আর কামারদের দাবি, ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় সরঞ্জামাদির দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।
উপজেলার পাইলগাঁও সাধুসাদক গ্রামের গৌতম চন্দ্র দে কামার বলেন, চাপ বেশি থাকায় রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে। নতুন সরঞ্জামের চাহিদার পাশাপাশি পুরাতনগুলোতে শান দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর বেশিরভাগ ক্রেতা পুরাতন সরঞ্জাম মেরামত করতে নিয়ে আসছেন। বিক্রি একটু কম হচ্ছে।
উপজেলার জগন্নাথপুর বাজারের অমর স্টোর মালিক অমর চন্দ্র দে বলেন, ৪০ বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত আছি। আমার পূর্বপুরুষরাও এই কাজ করতেন। এখন সারা বছর তেমন কোনো কাজ থাকে না। তবে কোরবানির ঈদের আগে কাজের চাপ থাকে। খুব বেশি বিক্রি হচ্ছে না, ঈদের এক-দুই দিন আগে বিক্রি বাড়বে। কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে গেছে, কয়লা কিনে আনতে অতিরিক্ত দাম।
হবিপুর দক্ষিণপাড়া নজমুল হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। তাই আগে থেকেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জামের নতুন ছুরি কিনে রাখছি।
জগন্নাথপুর বটের তল আরেক ক্রেতা আবুতাহের বলেন, পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরাতনগুলোতে শান দিতে নিয়ে এসেছি।
আপনার মন্তব্য