ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ

০৭ জুন, ২০২৪ ২৩:৫১

পানি বেড়ে শান্তিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে গত সপ্তাহে পানিতে টইটম্বুর হয়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ছোটবড় প্রায় ২৩টি হাওর। পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে নদী, বিল-ঝিল। ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে উপজেলার ৮ ইউনিয়নের তুলনামূলক নিচু গ্রামগুলোর রাস্তাঘাট।

এতে বিড়ম্বনায় পড়তে শুরু করেছেন পানিবন্দি মানুষগুলো। পারাপারের জন্য ব্যবহার করছেন নৌকা। যাদের নৌকা নেই পানিতে ভিজেই চলাচল কতরে হচ্ছে তাদের।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ক্রমাগত  পানি বৃদ্ধি হলেও শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত তেমন একটা পানি বৃদ্ধি হয়নি। আকাশে ঝলমলে রোদেরও দেখা মিলেছে সারাদিন। তবে আকাশ মেঘলা থাকলে কিংবা বৃষ্টিপাত হলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরপাড়ের এই মানুষগুলোর মনে শঙ্কা বেড়ে যায়। এদিকে, নতুন পানির সাথে হাওরে এসেছে দেশি জাতের মাছ। মা মাছেরা পোনা ফুটিয়েছে। প্লাস্টিক জাতীয় চোঙাকৃতির মাছ ধরার যন্ত্র পেতে কিংবা রিং জাল পেতে পোনামাছসহ সব ধরণের মাছ ধরতে শুরু করেছেন এই উপজেলার জেলেরা। এতে মৎস্য প্রজননও হুমকির মুখে পড়েছে।

শুক্রবার উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা, নোয়াগাঁও (কাকিয়ারপাড়), দরগাপাশা ইউনিয়নের ইসলামপুর, পাইকাপন, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের সলফ, হাঁসকুড়ি, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কাদিপুর, ইনাতনগর, নবীনগরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে প্লাবিত হয়েছে৷ বেশ কিছু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাকো ব্যবহার করছেন অনেকে। অনেকে আবার চলাচলের জন্য ব্যবহার করছেন নৌকা। এখনো ঘরবাড়ি প্লাবিত না হওয়ার কারণে বন্যার্তদের কেউই কোনো আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বৃষ্টি হলেই বাড়ছে পানি। এ নিয়ে বেশ শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষ। তারা বলছেন, বন্যার কথা মনে হলেই বাইশের বিভৎস চিহ্নের কথা চোখে ভেসে উঠে। গা সিউরে উঠে। মনে ভয় জাগে। বন্যার এমন ভয়াবহতা চাই না।

আস্তমা গ্রামের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান, লায়েক মিয়া ও আরজক আলী বলেন, দু’তিন আগে যে পানি বেড়েছিলো আমরা তাতে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের গ্রামের বেশ কিছু রাস্তা তলিয়ে গেছে। এখনো পানিতে ডুবে আছে৷ কান্দিহাটির মেইন সড়কই ডুবে আছে। তবে আজ (শুক্রবার) পানি বাড়েনি। তিনচার আঙুল পানি কমেছে। এভাবে থাকলে ভালো। আর যদি পানি বাড়ে তাহলে মানুষ দুর্গতিতে পড়ে যাবে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা বলেন, বন্যা বিষয়ে আমাদের সজাগ দৃষ্টি আছে। এখনো পর্যন্ত কোনো এলাকা তেমনভাবে প্লাবিত হয়েছে বলে কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। বন্যার কারণে যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হন আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। ইতোমধ্যে উপজেলা  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে আমাদের মিটিং হয়েছে। আমাদের প্রস্তুতি আছে। শুকনো খাবারসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও আছে আমাদের। কারো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত