নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জুন, ২০২৪ ২৩:০৩

জকিগঞ্জ ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে চোরাই চিনি লুটের অভিযোগ

সিলেটের বিয়ানীবাজারের পর এবার জকিগঞ্জে চোরাই চিনি লুটের ঘটনা ঘটেছে। বিয়ানীবাজারের মতো এ ঘটনায়ও জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদসহ ৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চোরাই চিনি লুটের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি জানাজানি হয় শুক্রবার রাতে।

এরআগে গত প্রায় দুসপ্তাহ আগেও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদসহ তার অনুসারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় চিনি ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠে। জকিগঞ্জ-আটগ্রাম সড়কের লামারগ্রামে একটি টমটম থেকে চোরাকারবারিদের আনা ভারতীয় চিনি ছিনতাই করতে টমটম আটকে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের এএসআই মশিউর রহমান উপস্থিত হলে ঘটনাটির সমাধান করে।

নাম না প্রকাশের শর্তে কালীগঞ্জ এলাকার এক জনপ্রতিনিধি জানান, কানাইঘাটের চোরাকারবারি আব্দুর রহিম ও ময়নুল হক বৃহস্পতিবার বিকেলে চারটি টমটম দিয়ে ভারতীয় চোরাই ৪০ বস্তা চিনি কালীগঞ্জ বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসার পথে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদ, সহসভাপতি জয়নন্দ অর্ণব, সহসভাপতি দুলাল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান, মানিকপুর ইউপি ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদ খাঁন, ছাত্রলীগ কর্মী তানভীর আহমদ, ছাত্রলীগ কর্মী জয়নাল আবেদিন, ছাত্রলীগ কর্মী শিপন আহমদ, ছাত্রলীগ কর্মী মামুন আহমদসহ ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারী কয়েকজন কর্মী কালীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে চোরাই চিনি বোঝাই চারটি টমটম আটকে চিনি ছিনতাই করে নিয়ে যান। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু সালিশ বৈঠকে ছাত্রলীগ নেতারা উপস্থিত হয়ে বিচার না মেনে উল্টো হুমকি ধমকি দিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে মানিকপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর রায়হান জানান, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদ ও সহসভাপতি জয়নন্দ অর্ণব চিনি ছিনতাই করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিন্তু তারা সালিশ বিচার না মেনে উল্টো তাদেরকে পারলে কেউ কিছু করে ফেলতো এই কথা বলে তারা চলে যায়। বিষয়টি আমি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজকে জানিয়েছেন।

চোরাই চিনির মালিক কানাইঘাটের আব্দুর রহিম জানান, জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪০ বস্তা চিনি ছিনতাই করা হয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে মারধরের ঘটনা ঘটে। তবে ছিনতাই হওয়া চিনির বস্তাগুলো ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদ। তাই শনিবার রাতে কালীগঞ্জ বাজারে গিয়ে সুলতান আহমদের কাছ থেকে ফেরত আনব।

জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান আহমদ মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার বিষয়ে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। তিনি চিনি ছিনতাইর সঙ্গে জড়িত নয়। এ বিষয়ে তিনি কোন কিছু জানেনও না।

জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, চিনি ছিনতাইর ঘটনাটি আমিও শুনেছি। ছাত্রলীগের কোনো পদপদবী নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চোরাকারবারি, ছিনতাইকারী কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক নয়।

জানতে চাইলে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। তবে এ ব্যাপারে ফেসবুকে কয়েকজনের পোস্ট দেখেছি। কিন্তু এ ঘটনায় পুলিশের কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।

দুসপ্তাহ আগেও এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে আমরা এমন একটি খবর পাই চিনিভর্তি টমটম কে বা কারা আটকে দিয়েছে। তখন আমি পুলিশ ফোর্স পাঠাই। কিন্তু পুলিশের আসার খবর শুনে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।

জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল প্রায় ছয় মাস আগে। নতুন কমিটির বিরুদ্ধে চিনি লুটের অভিযোগ সম্পর্কে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ শনিবার বিকেলে বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে প্রবাস থেকে আমার দুজন ভাই এসেছেন। আমি তাদের নিয়ে পারিবারিকভাবে একটু ব্যস্ত আছি। এ জন্য ঘটনাটি জানার মধ্যে নেই। তবে কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই সাংগঠনিকভাবে দেখা হবে।’

জকিগঞ্জ সিলেটের প্রান্তসীমার একটি উপজেলা। ভারতের করিমগঞ্জের পাশে অবস্থান। সেখানে কুশিয়ারা নদীই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত