০৫ জুন, ২০২৫ ২০:৫৯
পবিত্র ঈদুল আযহার দীর্ঘ ছুটি উপলক্ষে মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলের হোটেল রিসোর্ট-কটেজে আগাম কক্ষ বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে। এরই মধ্যে শ্রীমঙ্গলের রিসোর্ট-কটেজগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশের আগাম বুকিং হয়েছে।
পর্যটকদের কাছে সারা বছরই পছন্দের তালিকায় থাকে শ্রীমঙ্গল। এবার ঈদের ছুটি তুলনামূলক দীর্ঘ হওয়ায় শ্রীমঙ্গলে পর্যটক সমাগম অন্যবারের তুলনায় বেশি হবে বলে আশাবাদী পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ঈদ উল আযহায় এবার লম্বা ছুটি। ৫ জুন থেকে ১৪ জুন টানা ১০ দিন ছুটি কাটাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্কুল কলেজে সেই ছুটি আরো বেশী, সেখানে ১৯ জুন পর্যন্ত ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
এই দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করার জন্য পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে অনেকেই ছুটছেন দেশের দর্শনীয় পর্যটন স্থান গুলোতে। এই পর্যটকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত রয়েছে দেশের অন্যতম পর্যটন প্রসিদ্ধ স্থান চায়ের রাজধানী-খ্যাত শ্রীমঙ্গল। পর্যটকরা থাকার জন্য এখানে রয়েছে ১০০ টির কাছাকাছি হোটেল রিসোর্ট। ইতিমধ্যেই ৬ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত এখানকার হোটেল রিসোর্টগুলোর প্রায় ৯০শতাংশ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের দিন থেকে সব গুলো হোটেল রিসোর্টে হাউজফুল পর্যটক থাকবে বলে আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় বছর খানেক ধরে ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতেই যাচ্ছেন পর্যটকরা। এমনিতে শ্রীমঙ্গলে পর্যটকরা সারা বছরই ভিড় করেন।
তাছাড়া এখানকার চারদিকে সবুজের সমারোহে সজ্জিত সারি সারি চা-বাগানের নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করে পর্যটকদের। পাশাপাশি দার্জিলিং টিলা, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), টি মিউজিয়াম, খাসিয়া পল্লী, মনিপুরী পল্লী, বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হাইল হাওর, মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, চা–কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি-৭১, লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, ব্রিটিশদের সমাধিস্থল ডিনস্টন ওয়ার সিমেট্রি, হরিণছড়া গলফ মাঠ, বিভিন্ন আদিবাসাী জনগোষ্ঠরী পল্লীগুলো পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলের পাশ্ববর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি বিজড়িত ধলাই সীমান্ত নুরজাহান চা বাগান পর্যটকদের বিমোহিত করে।
শ্রীমঙ্গলের পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বেশী রিসোর্ট রয়েছে রাধানগর ও ডলুবাড়ি এলাকায়। সেখানের লেমন গার্ডেন রিসোর্ট এর মালিক সেলিম মিয়া বলেন, রাধানগর ও ডলুবাড়ি এলাকার সব রিসোর্টেই আগাম বুকিং পেয়েছে। আমাদের লেমন গার্ডেন রিসোর্টে ৮ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত প্রায় সব রুমই আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের কথা ভেবে আমরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছি।
শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম বলেন, ঈদের এই লম্বা ছুটিতে বিদেশী পর্যটক নেই বললেই চলে। আর বিদেশী পর্যটক না এলে ট্যুর গাইডদের কম বুকিং থাকে। তবে হোটেল রিসোর্টগুলো ভালো আগাম বুকিং পেয়েছে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, শ্রীমঙ্গলের রিসোর্টগুলো বেশীরভাগই শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। শহরে আর বড় কিছু রিসোর্টে এখনো কয়েকটা রুম আছে। সবাই আগাম বুকিং দিয়ে দিয়েছেন। ৬ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ এর জন্য পর্যটকরা আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। আমরা এরইমধ্যে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। আমরা আশা করছি ঈদের লম্বা ছুটিতে চায়ের রাজ্যে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের শ্রীমঙ্গলে সারাবছরই এখানে পর্যটকরা আসেন, কিন্তু ট্রেনের টিকেট সংকটের কারনে পর্যটকরা টিকেট পান না। আমরা পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করি পর্যটকদের জন্য ঢাকা সিলেট রোডে একটি নতুন আন্তনগর ট্রেন সংযোগ করা হোক। পাশাপাশি যেসব জায়গায় যোগাযোগ রাস্তাঘাট সমস্যা আছে সেসব জায়গায় কাজ করলে পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন উভয়ই উপকৃত হবেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোন এর পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, পবিত্র ঈদ উল আযহায় দীর্ঘ ছুটি থাকায় প্রচুর পর্যটক সমাগম হবে। ইতিমধ্যেই আমরা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সাথে সভা করেছি। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে নজরদারি রাখছি। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ থানার পুলিশ, র্যাব সাদা পোশাকেও আমাদের টুরিস্ট পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় থাকবে। পর্যটকরা যেন নির্ভিগ্নে ঘুরাফেরা করে সুন্দরভাবেই বাড়ি ফিরতে পারে আমরা সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছি।
আপনার মন্তব্য