নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ জুন, ২০২৫ ২২:২০

শাবির হলের ওয়াশরুমে পড়ে ছিলো দুই বিড়ালছানার ‘গলাকাটা’ মরদেহ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র হলের ওয়াশরুম থেকে দুটি বিড়ালছানার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিড়ালছানা দুটিকে কেউ হত্যা করা থাকতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, হলের পাশ্ববর্তী জঙ্গল থেকে শিয়াল বা এ জাতীয় কোন প্রাণীর আঘাতে বিড়াল দুটি মারা গেছে।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতাবা আলী ছাত্র হলের তৃতীয় তলার একটি ওয়াশরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিড়ালছানা দুটির মরদেহ দেখতে পান। তবে ঈদের ছুটির কারণে হলে তেমন ছাত্র না থাকায় সন্ধ্যার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির কারণে এখন ক্যাম্পাস বন্ধ। ফলে হলেও হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তবে বন্ধের সময়ও দুতিন পরপর পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা হল পরিষ্কার করেন।

সৈয়দ মুজতাবা আলী হলের হল সুপারভাইজার নান্টু রঞ্জন বিশ্বাস জানান, সকালে হলের ওয়াশরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিড়ালের দুটি বাচ্চার মরদেহ পরে থাকতে দেখেন। প্রভোস্ট স্যারের কাছ থেকে এই খবর পেয়ে আমি হলে যাই।

তিনি বলেন, হলটি টিলার উপরে ও আশপাশে ঘন জঙ্গল রয়েছে। হলে এখন তেমন শিক্ষার্থী না থাকায় শিয়াল বা অন্য কোনপ্রাণী ভেতরে প্রবেশ করে থাকতে পারে। বন্যপ্রাণীর আঘাতেই বিড়াল দুটি মারা যেতে পারে।

তবে হলে থাকা এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মারা যাওয়া দুটি বিড়ালেরই গলায় আঘাত করা হয়েছে। আর কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন নাই। শিয়াল বা অন্য কোন প্রাণী হামলা করলে কেবল গলায় আঘাত করবে কেন?

তিনি বলেন, হলের ভেতরে শেয়াল প্রবেশ করতে আমি কখনোই শুনিনি। এছাড়া হলে নিরাপত্তাকর্মীরা রয়েছে। শেয়াল প্রবেশ করলে তারা দেখতে পেতেন।

তার ধারণা বিড়াল দুটির গলা কেটে কেউ হত্যা করে থাকতে পারে।

তবে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সৈয়দ মুজতাবা আলী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, বিড়াল ছানা দুটি গলাকাটা নয়, গলায় কামড়ের দাগ ছিলো। তাই ধারণা করছি, শিয়াল বা বাঘডাশের কামড়ে বিড়াল দুটি মারা যেতে পারে।

তিনি বলেন, হলের পাইপসহ বিভিন্ন জায়গা দিয়ে শেয়াল ভেতরে প্রবেশ করে থাকতে পারে। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত