১৪ জুন, ২০২৫ ২২:১৭
বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের শনিবার সিলেটের জাফলং ভোলাগঞ্জ ও সাদাপাথর পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিলো।
পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী শনিবার সকালে তারা গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটন এলাকা পরিদর্শনে যান। কিন্তু সেখানে গিয়েই ঘটে এক অনভ্রিপেন ঘটনা। জাফলংয়ে পাথর শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন উই উপদেষ্টা। পাথর কোয়ার্খিুলে দেয়ার দাবিতে উপদেষ্টাদের গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। পরে পুলিশের সহায়তায় তারা সেখান থেকে ফেরত আসেন। এরপর আর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ ও সাদাপাথর যাওয়া হয়নি তাদের।নির্ধারিত এই সফর বাতিল করেন দুই উপদেষ্টা।
জাফলংয়ে পাথর শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ার প্রেক্ষিতে উপদেষ্টাদের ভোলাগঞ্জ ও সাদাপাথর পরিদর্শন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
যদিও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, বিক্ষোভের কারণে নয়, বরং সময়ের অভাবে ভোলাগঞ্জ ও সাদাপাথর যাওয়া হচ্ছে না।
বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, জাফলং গিয়ে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই ভোলাগঞ্জ ও সাদাপাথর যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাহিদার মাত্র ৬ শতাংশ পাথর দেশের কোয়ারিগুলো থেকে উত্তোলন করা হয়। বাকিগুলো আমদানি করতে হয়। তাই যেহেতু আমদানি করতে হচ্ছেই তাহলে মাত্র ৬ শতাংশের জন্য কেন পরিবেশ ধংস করবো?
তিনি বলেন, পাথর পরিবহনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক মেরামতে যে টাকার প্রয়োজন হয় সেই পরিমান টাকাও কোয়ারি থেকে রাজস্ব আদায় হয় না।
এরআগে শনিবার দুপুরে জাফলংয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেছেন পাথর শ্রমিকরা।
সকালে জাফলং পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেন অন্তর্বতী সরকারের এই দুই উপদেষ্টা। পরিদর্শন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দুই উপদেষ্টাই জানান, সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো আর খুলে দেয়া হবে না। তাদের এই বক্তব্যের পরপরই পাথর শ্রমিকরা জড়ো হয়ে তাদের গাড়ি আটকিয়ে বিক্ষোভ করেন। এসময় উপদেষ্টাদের গাড়ি প্রায় ১০ মিনিট আটকে রাখেন শ্রমিকরা। এসময় পুলিশের সাথে হাতাহাতি হয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের। কিছুক্ষণ পর পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন দুই উপদেষ্টা।
বিক্ষোভ প্রসঙ্গে জাফলংয়ের পাথর শ্রমিক আশরাফ হোসেন বলেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় লাখো শ্রমিক বেকার হয়ে আছে। ফলে তাদের সবাই মনেই ক্ষোচ বিরাজ করছে। আজকে এই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে।
তিনি বলেন, জাফলংয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও লুটপাট বন্ধ নেই। লুটপাটকারীদের সুযোগ করে দিতেই বৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ রেখেছে সরকার।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ বলেন, আকস্মিকভাবে কিছু লোক উপদেষ্টাদের গাড়ি আটকে মিছিল করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ দ্রুত তাদের সরিয়ে দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, উপাদেষ্টাদের গাড়ি নিরাপাদে জাফলং ছেড়ে চলে গেছে। তারা এখন হরিপুর গেস্ট হাউসে আছেন।
এর আগে জাফলং পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে জাফলং ও এর আশেপাশের এলাকার পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। জাফলং এর অবৈধ পাথর ক্রাশারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
আর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সিলেটের আর কোন পাথর কোয়ারি খুলে দিবে না সরকার।
তিনি বলেন, জাফলং পর্যটন কেন্দ্রকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এমটটি হলে এ অঞ্চলের পাথর শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, জাফলং ইসিএ এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এরকম অবৈধ কার্যক্রমের সাথে কেউ জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য