নিরঞ্জন দে

২৩ জুন, ২০২৫ ১৪:০০

বিশ্ব যোগদিবসের ভাবনা : দেহে ও মনে সুস্থ হই, সবাই আনন্দে বাঁচি

যোগব্যায়াম প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন পদ্মশ্রী দে। ছবি: ট্রিপল এ’র সৌজন্য

মানুষ সামাজিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাণী। মানুষ একা থাকতে পারেনা, একা বাঁচতেও পারেনা। আবার, মানুষ নিজের সুখের জন্য, ভোগবিলাসের জন্য, ক্ষমতা ও প্রভাব প্রতিপত্তির জন্য, অন্ধবিশ্বাস আর অজ্ঞতার জন্য নিজের জীবনকে ঠেলে দেয় অনিশ্চিত অন্ধকার পথে। নিজে বিপন্ন হয় চারপাশের মানুষকেও বিপন্নতায় ঠেলে দেয়। প্রকৃত সুখ অধরাই থেকে যায়, আর শান্তির সংজ্ঞাটাই জানেনা জীবন সায়াহ্নে এসেও। তাই আধুনিক বিশ্বে মানুষের সবই আছে আবার যেন কিছুই নাই এমন একটা হাহাকার চলছে। উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটছে মানুষ সুখ আর শান্তি লাভের আশায়। অরণ্যচারী মানুষ নগর বন্দর গড়েছে, ইমারত অট্টালিকা বানিয়েছে, আকাশে উড়েছে, সমুদ্রের বুক চিরে মুক্তা-মাণিক তুলে এনেছে। নব নব আবিষ্কারে সভ্যতায় অবদান রেখেছে। রোগব্যাধির চিকিৎসায় দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবুও মানুষ ক্লান্ত, হতাশায় নিমজ্জিত। সে যাত্রাপথে আনন্দকে হারিয়েছে। সে ভুলে গেছে তার মনের কথা, মনের খোরাক, মনের সুস্থতার কথা। দেহ নিয়েই চলছে মানুষ, মনকে প্রাধান্য দিচ্ছেনা। অথচ, আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, প্রাচীণ আয়ুর্বেদশাস্ত্র, মনোবিজ্ঞান সবখানেই বলা হয়েছে দেহের সাথে রয়েছে মনের নিবিড় সম্পর্ক। দেহ অসুস্থ হলে মন অসুস্থ হয়, আবার, মন অসুস্থ হলে দেহ অসুস্থ হয়। এখানেই মন ও দেহ মিলে মানুষ এক অখণ্ড অবিভাজ্য সত্তা। তাই আমাদের সাহিত্যেও 'তনুমন', 'কায়মন' এই শব্দবন্ধ গুলি অখণ্ড মানুষকে বুঝাতেই বহুল ব্যবহৃত হয়েছে। দেহের মানুষটি আর মনের মানুষটি মিলে এক না হলেই বিপত্তি। দুটি সত্তা মিলেই এক ও অখণ্ড মানুষ।

মানুষের অখণ্ড সত্তায় মন ও দেহ সমভাবে সক্রিয় ও আন্তঃসম্পর্কযুক্ত। এই উভয় সত্তার মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে জীবনের সামগ্রিক সুস্থতা বিঘ্নিত হয়। প্রাচীনকাল থেকেই মন ও দেহের সম্পর্কের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কার এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের জটিলতা এ সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য এখন শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় নয়, বরং সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক অস্তিত্বের মৌলিক শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন ও দেহের পারস্পরিক সম্পর্ক মানসিক অবস্থা এবং শারীরিক পরিস্থিতির মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ক রয়েছে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা অতিরিক্ত উত্তেজনা সরাসরি শরীরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রভাব ফেলে। যেমন- মানসিক চাপে কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ, হজমের সমস্যা ও অনিদ্রা দেখা দিতে পারে। একইভাবে, দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ব্যথা বা অসুস্থতা যেমন- ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা ক্যান্সার, মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিউরো সায়েন্স ও মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে যে, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মন ও দেহ একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত। এই সংযোগ যতটা মানসিক,ততটাই জৈবিক।

আধুনিক জীবনে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে গোটা বিশ্বে আলোচনা ও নানা উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে কাজের চাপ, প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তির উপর অতিনির্ভরতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা যেমন বেড়েছে, ঠিক তেমনি বেড়েছে মানসিক ও দৈহিক স্বাস্থ্যেরপ্রতি গুরুত্ব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্যকে সংজ্ঞায়িত করেছে “শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার পূর্ণ অবস্থা” হিসেবে। সুতরাং কেবল রোগমুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়; বরং মানসিক স্থিতি, আবেগের ভারসাম্য ও সামাজিক সম্পর্কও সুস্থতার মাপকাঠি।
বিশ্বব্যাপী উদ্বেগজনিত রোগ, বিষণ্নতা, নিঃসঙ্গতা ও আত্মহত্যার হার যে হারে বাড়ছে, তা আমাদেরকে মন ও দেহ সংযোগের বিষয়ে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। একইসঙ্গে বাড়ছে হৃদরোগ, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো অসুখ, যেগুলোর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্পষ্ট যোগ রয়েছে। আধুনিক  জীবনপ্রণালীর প্রভাব এক্ষেত্রে অনেকটাই দায়ী।

আজকের নগরকেন্দ্রিক, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা আমাদেরকে আরামপ্রিয় করলেও তা স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। দীর্ঘসময় বসে থাকা,প্রসেসড খাবার খাওয়া, ঘুমের অনিয়ম, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং সামাজিক মেলামেশার অভাব, উগ্রতা, স্বার্থচিন্তা এসব মিলিয়ে মানুষ একধরনের মানসিক ও শারীরিক নিঃসঙ্গতায় ভুগছে।
তবে ইতিবাচক দিক হল- এই সংকট থেকে মুক্তির পথও আধুনিক সমাজে রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, কাউন্সেলিং, মাইন্ডফুলনেস থেরাপি ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বলা যায় একটি স্বাস্থ্যবান সমাজ গঠনের জন্য ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মন ও দেহ একে অপরের পরিপূরক। একটির প্রতি অবহেলা অপরটির ক্ষতি ডেকে আনে। আধুনিক জীবনের গতিশীল ও চাপযুক্ত প্রেক্ষাপটে টিকে থাকতে হলে আমাদের প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনদর্শন- যেখানে মনের প্রশান্তি ও দেহের সজীবতা পাশাপাশি বিকশিত হবে। সুস্থতা এখন কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়, বরং একটি সামগ্রিক জীবনচর্চার নাম। এই ছন্দময় জীবনচর্চায় অভ্যস্ত হতে প্রাচীণ যোগাশাস্ত্রের কোনো বিকল্প নেই।

যোগশাস্ত্র একটি দর্শন ও সাধনপদ্ধতি যা অতিপ্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ । “যোগ” অর্থ সংযোগ বা মিলন। জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন, দেহ ও মনের ঐক্য ও ভারসাম্য স্থাপন। আধুনিক বিশ্বের নানাবিধ মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ইয়োগা বা যোগ সাধনা শুধুমাত্র একটি শারীরিক অনুশীলন নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন।

ইয়োগাশাস্ত্র বলতে সেই সমস্ত শাস্ত্রীয় ও দর্শনীয় সূত্রসমূহ বোঝানো হয়, যেখানে যোগপথ ও যোগসাধনার বিশদ আলোচনা রয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের ছয়টি মূল শাখার একটি হল “যোগ দর্শন”, যারপ্রধান গ্রন্থ হল পতঞ্জলি মুনি রচিত যোগসূত্র। এতে আটটি ধাপবিশিষ্ট “অষ্টাঙ্গ যোগ” বর্ণিত হয়েছে যেমন- যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান, সমাধি। এই আট ধাপকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ইয়োগাশাস্ত্রের সম্পূর্ণ কাঠামো। এর মাধ্যমে সাধক ধীরে ধীরে বাহ্যজগত থেকে অন্তর্জগতে প্রবেশ করেন এবং আত্মানুসন্ধানে ব্রতী হন। তবে যোগ মূলত দুটো ধাপে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যায়।

১) অষ্টাঙ্গ যোগ : যা পূর্বে বলা হয়েছে।
২) চতুর্বিধ যোগপথ (মার্গভিত্তিক সাধনা): জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ, কর্মযোগ, রাজযোগ।

অষ্টাঙ্গ যোগ হচ্ছে আটটি ধাপের পথ। ঋষি পতঞ্জলি প্রণীত যোগসূত্র অনুসারে, অষ্টাঙ্গ যোগ হল যোগসাধনার ধাপে ধাপে পথ, যার মাধ্যমে সাধক আত্মশুদ্ধি ও চেতনার পরিপূর্ণতায় পৌঁছান। চতুর্বিধ যোগপথে সাধক আরও উচ্চস্তরে এগিয়ে যান। যোগদর্শনে মানুষের প্রকৃতি ও মানসিকতার ভিত্তিতে চারটি প্রধান যোগপথের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি পথই আলাদা, কিন্তু উদ্দেশ্য এক- মুক্তি বা আত্মদর্শন।

১. জ্ঞান যোগ- দর্শনের যোগ। এটি চিন্তাশীল ও বুদ্ধিমান সাধকদের জন্য উপযুক্ত, যারা আত্মা ও পরমাত্মা সম্পর্কে যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে জ্ঞানলাভে বিশ্বাসী। এর মূল ভিত্তি হচ্ছে শ্রবণ, মনন, নিদিধ্যাসন। মূল প্রশ্ন: “আমি কে?” লক্ষ্যে হচ্ছে আত্মা ও ব্রহ্মের অদ্বৈত জ্ঞান লাভ করা। উপনিষদের উপদেশ- “অহম ব্রহ্মাস্মি” (আমি ব্রহ্ম)।

২. ভক্তি যোগ- প্রেম ও সমর্পণের যোগ। এটি হৃদয়নিষ্ঠ সাধকদের পথ, যারা ঈশ্বরের প্রতি প্রেম, শ্রদ্ধা, গান, কীর্তন, পূজা ইত্যাদির মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভের সাধনা করেন। ভাবটি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও নির্ভীক ভক্তির। শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, দাস্য, সখ্য, আত্মনিবেদন ইত্যাদি ধাপে ধাপে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সাধকের। যেমন, মীরাবাই, শ্রীচৈতন্যদেব।

৩. কর্ম যোগ- নিঃস্বার্থ কর্মের যোগ। এটি কর্মনিষ্ঠদের জন্য। কাজের মধ্যে থেকেই ঈশ্বরপ্রাপ্তি সম্ভব-এই দর্শনেই বিশ্বাস তাদের। সৎকর্মই ধর্ম।

৪. রাজ যোগ- ধ্যান ও চেতনার রাজপথ। এটি মনের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং ইন্দ্রিয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমাধিতে পৌঁছানোর পথ। ধ্যান ও চেতনার গভীর অনুশীলনের মাধ্যমে পরমচেতনায় লীন হওয়া। এটি মনোবিজ্ঞানভিত্তিক যোগপদ্ধতির চূড়ান্ত প্রকাশ।

নিরঞ্জন দে।

যোগশাস্ত্রের ধাপগুলো ও যোগপথসমূহ মূলত একে অপরের পরিপূরক। কেউ অষ্টাঙ্গ যোগের ধাপ ধরে এগোতে পারে, আবার কেউ জ্ঞান, ভক্তি বা কর্মযোগের মাধ্যমে চূড়ান্ত মুক্তির পথে যেতে পারে। যোগশাস্ত্র তাই কেবল একটি দার্শনিক ধারা নয়, এটি মানবজীবনের সামগ্রিক পরিশুদ্ধির পথ, যা দেহ, মন ও আত্মাকে ঐক্যবদ্ধ করে মোক্ষ বা চূড়ান্ত মুক্তির দিকে নিয়ে যায়। যোগশাস্ত্রের ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম। যোগশাস্ত্রের মূল ধারণা হাজার হাজার বছর পুরোনো। মুদ্রা ও ভাস্কর্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিন্ধু সভ্যতাতেই ইয়োগা চর্চার প্রমাণ রয়েছে। উপনিষদ, গীতা ও অন্যান্য শাস্ত্রেও ইয়োগার দার্শনিক ব্যাখ্যা রয়েছে। পৃথিবীর প্রাচীণতম সাহিত্য ঋস্বেদ, বেদান্ত দর্শন, মহাভারত, শ্রীমদ্ভগবৎ গীতা সহ সমগ্র প্রাচীণ ভারতীয় গ্রন্থ সমূহে যোগ এবং কর্ম এ দুটি বিষয়ের বিশদ উল্লেখ ও ব্যাখ্যা রয়েছে। কর্মই মানুষের জীবনের পরিণতি ও পথ নির্দৃ ষ্ট করে দেয়। যোগা সেই কর্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। দেহ, বল, ক্ষমতা, চিন্তাচেতনা ও মনোভাবের এক ছন্দময় স্থিতি এনে দেয়।

প্রযুক্তির চরম উন্নতির যুগে মানুষ এখন মহাব্যস্ত। নিজেকে সময় দেয়ার সময় তার নেই। এই প্রেক্ষাপটে যোগার গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও স্কুল কলেজে ইয়োগা ক্লাস চালু করা হয়েছে।

যোগা শুধুই শারীরিক ব্যায়াম নয় এটি একটি পরিপূর্ণ সুস্থতার ও উৎকর্ষতার জীবনদর্শন, একটি বিধান, একটি নির্ভর অবলম্বন। দেহে ও মনে সুস্থ থাকা মানেই নিরোগ থাকা নয়। সুস্থতার সংজ্ঞাটা ব্যাপক ও গভীর। স্থির হওয়া, সংযমী হওয়া, আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করা, শ্বাসপ্রশ্বাসের সুনিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার ঘটানো, হাড় ও পেশীর গঠন দৃঢ় করা, সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের যথাযথ ভাবে পরিচালন ও পরিচর্যা, ঘুম, প্রশান্তি, খাদ্যাভ্যাস, ভক্তি, শ্রদ্ধা, বিনয়, দয়া, ভালোবাসা, মিতভাষী ও মিষ্টভাষী হওয়া, বিশ্বের প্রাণ-প্রকৃতির সাথে অখণ্ড ভাব ধারণ করা ইত্যাদি সমস্ত কিছু নিয়ে যোগাশাস্ত্র এবং যোগাভ্যাস। অস্থির বিশ্বে আজ এর প্রয়োজন অনস্বীকার্য।

২০১৪ সালে জাতিসংঘ ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারতের প্রস্তাবে জাতিসংঘে সেটি গৃহিত হয়। এর একটি মাহাত্ম্য আছে। ২১ জুন পৃথিবীর দীর্ঘতম দিন। জ্যোতির্বিজ্ঞানে এর উল্লেখ রয়েছে। সেদিকে যাচ্ছিনা লেখাটি দীর্ঘ হবে তাই। এখন বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে ইয়োগা চর্চা হচ্ছে। এটি এখন ধর্মীয় সাধনা নয়, বরং এক মানবিক ঐতিহ্য। হাল আমলে স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষা, কর্পোরেট ট্রেনিং এমনকি কারাগারেও ইয়োগার চর্চা ও ব্যবহার হচ্ছে। সকল ধর্ম, বর্ণ, জাতির মানুষ আজ যোগ চর্চায় আগ্রহী হচ্ছেন।

গতানুগতিক চিন্তাধারা থেকে আসুন সবাই বের হয়ে মুক্ত আলোয় নিজেকে দেখি, সময় দেই, দেহে ও মনে সুস্থ হই। যোগাশাস্ত্র এক বিজ্ঞানসম্মত, দার্শনিক ও নৈতিক জীবনযাপন পদ্ধতি। আজকের অস্থির, বিভ্রান্ত ও আত্মকেন্দ্রিক বিশ্বে যোগা ব্যক্তিকে আত্মসচেতনতা, শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে। আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত ইয়োগা এক নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করছে, যা সারা বিশ্বে স্বাস্থ্য, শান্তি, সম্প্রীতি ও আত্মবিকাশের অন্যতম আলোকিত সোপান হয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। বিশ্ব যোগাদিবসে সকলের প্রকৃত সুস্থতা কামনা করি। মানুষ একা বাঁচেনা, আসুন সবাই মিলে আনন্দে বাঁচি।

নিরঞ্জন দে: লেখক, প্রামাণ্যকার ও সংগঠক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত