০১ জুলাই, ২০২৫ ০০:০৩
পাথর কোয়ারি সচলের দাবিতে সোমবার ধোপাগুলে গণঅনশন কর্মসূচী পালন করা হয়। ছবি সংগৃহীত
সিলেটের পাথর কোয়ারি সচলের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা তাদের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। পণ্য পরিবহন ধর্মঘট ও গণপরিবহন ধর্মঘটের মতো কঠোর কর্মসূচী থেকে পিছু হটেছেন তারা। তবে এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে বালু-পাথরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
সিলেটের বন্ধ কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৮ ও ২৯ জুন (শনি ও রবিবার) এই দুই দিন সিলেটের পাথর কোয়ারি থেকে লোড-আনলোডের কর্মবিরতি পালন করে শ্রমিকরা।
সোমবার (৩০ জুন) সকাল থেকে সিলেট জেলায় পণ্যপরিবহন শ্রমিকদের ৪৮ ঘন্টার কর্মবিরতির ডাকও দিয়েছিলো বালু-পাথরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। কিন্তু এ কর্মসূচি থেকে সরে এসে সোমবার সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সিলেটের সদর উপজেলার ধুপাগুল শহীদ মিনারে গণঅনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোলাগঞ্জে ও পরদিন বুধবার জাফলংয়ে একই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা পাথর-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক শাব্বীর আহমদ ফয়েজ। তিনি বলেন, মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে আমরা পরিবহন ধর্মঘটে আপাতত যাচ্ছি না। তার বদলে সৃজনশীল কর্মসূচী দিচ্ছি।
এদিকে, বুধবার থেকে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলেটে গণ ও পণ্যসহ সবধরণের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিলেও আপাতত এই কর্মসূচী পালন না করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার আমরা পরিবহন ও পাথর সংশ্লিষ্টদের সাথে বসবো। এতে কর্মসূচীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেট জেলা প্রশাসন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করতে চাচ্ছে। সোমবার বিকালে সিলেট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন- পাথর কোয়ারি নিয়ে আমরা শীঘ্রই সংশ্লিস্টদের সাথে বৈঠক করবো।
উল্লেখ্য, ১৪ জুন প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) জাফলং পরিদর্শনে যান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এ সময় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে জাফলংসহ সিলেটের কোনো পাথর কোয়ারি ভবিষ্যতে ইজারা দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে অবৈধ পাথরের ব্যবসা ঠেকাতে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান দ্রুততার সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে থাকা পাথর ভাঙার যন্ত্রের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। দুই উপদেষ্টার নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই ১৬ জুন থেকে পাথর ভাঙার যন্ত্রের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। এই অভিযান সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কোনো না কোনো স্থানে নিয়মিত চলছে।
সোমবার কোম্পানীগঞ্জে অভিযানে ১৭টি ক্রাশার মেশিন ধ্বংস, ১০টির বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ১ লক্ষ ৪০ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। এরআগে
২৯, ২৫ ও ১৮ জুন জাফলংয়ে ১৬২টি যন্ত্রের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।
ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের ‘গণঅনশন’
সোমবার সিলেট জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আয়োজন ধুপাগোল শহীদ মিনার পয়েন্টে, সিলেটের ৫টি পাথর কোয়ারীর ইজারা স্থগিত ও ট্রাক শ্রমিকদের গাড়ি তল্লাশীর নামে হয়রানি ও সকল ক্রাশার মালিকদের ব্যবসার সুযোগ এবং বিদ্যুৎ মিটার পূণরায় ফেরত দেওয়ার দাবিতে গণঅনশন কর্মসচী পালন করা হয়।
এতে বক্তারা বলেন- ৫ আগস্টের পর সরকার কর্তৃক অনুমোদিত লীজ পেলেও অজ্ঞাত কারণে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সিলেটের পাথর কোয়ারী সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার শ্রমিক ও মালিক পরিবার আজ অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট স্বৈরাচারি সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ কীভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে। যদি প্রয়োজন হয়, শ্রমিক-মালিকরা আবারও রাস্তায় নামবে। পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় হাজার হাজার ক্রাশার মিল আজ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক মালিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ক্রাশার মিল চালু করেছিলেন, এখন সেই ঋণ শোধ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিলের মিটার ও বিদ্যুৎ সংযোগ অন্যায়ভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, অথচ বিল পরিশোধ করছে মালিকরা নিজেরাই। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, অতি দ্রুত পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে।
সিলেট সদর পাথর স্টোন ক্রাশার মালিক সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি মো: মন্তাজ আলির সভাপতিত্বে ও ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আব্দুল হকের পরিচালনায়, অনশন ও সমাবেশ পরবর্তীতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রখেন, সিলেট জেলা ট্রাক পিকাপ মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো. নাজির আহমদ স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা ট্রাক পিকাপ মালিক গ্রুপের সহ সভাপতি, মুজিবুর রহমান মুজিব, সিলেট সদর পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও ৫নং ওয়ার্ড জামায়াত ইসলামির সভাপতি মুহিবুর রহমান সুলেমান, সিলেট সদর উপজেলা বিএনপি সদস্য মামুন আল রশিদ হেলাল,সিলেট সদর পাথর স্টোন ক্রাশার ও বালি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সহ সভাপতি শানুর মিয়া, সিলেট জেলা যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ শাহীন, ব্যবসায়ী ও ৬নং ফতেগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য কামরুল ইসলাম,এয়ারপোর্ট থানা ট্রাক পিকাপ কাভার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আহাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমদ, সালুটিকর ঘাট পাথর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম,সিলেট জেলা যুবদলের সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রেহান আহমদ কামরান, জেলা যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান, অনি মিয়া, শামিম আহমদ।
আপনার মন্তব্য