০৩ জুলাই, ২০২৫ ২১:২১
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস চলু, মানসম্মত লাইব্রেরি ও আবাসিক হলের দাবিতে ৮ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে শান্তিগঞ্জস্থ অস্থায়ী ছাত্রাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনের জন্য ইতোমধ্যে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ইউজিসির অনুমতি না পাওয়ার অজুহাতে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে এখনো কোনো বাসের ব্যবস্থা হয়নি।
প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সিএনজি, বাসে চড়েই ক্লাসে আসতে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে একদিকে বাড়ছে সময় ও ব্যয়, অন্যদিকে হাফপাস নিয়ে প্রায়ই যানবাহন চালকদের সঙ্গে বিতর্কে জড়াতে হয় তাদের। অনেক সময় অপমানজনক আচরণেরও শিকার হন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, আমরা শুধু বাস চাইছি না। আমাদের ন্যায্য অধিকার চাইছি। ক্লাসে পৌঁছাতে প্রতিদিন আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। অথচ পরিবহনের জন্য টাকা থাকলেও কর্তৃপক্ষ শুধু অনুমতির কথা বলে দায় এড়াচ্ছে। বাসের পাশাপাশি আমাদের মানসম্মত হল ও লাইব্রেরির ব্যবস্থাও করতে হবে৷
হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাস ব্যবস্থা করা না হলে তারা ক্লাস বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন তারা। এর দায়ভার সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষার্থী জাকারিয়া নাইম, জি এম তাইমুম, সুরভী চৌধুরী, সোহানুর রহমান ও তাকবিল হাসান৷
এসময়, মিনহাজুল মিনাল, সাব্বির হোসেন, তনুশ্রী দেব, সুদিপ্তা চৌধুরী, আশরাফ হোসেন, লাবন্য মন্ডল, আদিবা জামান নাফি, আব্দুর রহমান নিশাদ, রুবাইয়া বর্ষা, তাসমিম অধরা,পূজা রয়, তাসনিম জাহান, সাফিন আহমেদ ও নাহিয়ানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নিজাম উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে প্রধান দাবি হচ্ছে পরিবহণের ব্যবস্থা করা। এটা অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি। এই দাবির সাথে আমরাো একমত। আমরাও চাই শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র যাতায়াত ব্যবস্থা হোক। এসব বিষয় চিন্তা করে আমি ইতোমধ্যে শুধুমাত্র যাতায়াতের ব্যবস্থার বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের কাছে ৩ বার চিঠি দিয়েছি। সরকার কর্তৃক ‘এম্বারগো’ (সরকারীভাবে ক্রয় আদেশ বন্ধ) থাকার কারণে আমরা বাসের ব্যবস্থা করতে পারছি না।সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এমনকি আমি এও চেয়েছি যে, ভাড়ায় নূন্যতম বাসের ব্যবস্থা করতে। তারও অনুমোদন পাচ্ছি না। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক এ দাবি পূরণে আমু সর্বোচ্চ তৎপরতার সাথে কাজ করছি। আর হলের ব্যপারেও আমরা কাজ করছি। মেয়েদের আলাদা একটি ভাড়া বাসায় ইতোমধ্যে উঠানো হয়েছে। ছেলেদের জন্য একটি ভবনের ইতোমধ্যে চুক্তি হয়েছে। প্রসেসিং দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসায় আমরা একাডেমিক কার্যক্রম চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছি। আগামী সোমবারেই লাইব্রেরির ব্যপারে একটি ঘোষণা দিয়ে দিতে পারবো।
আপনার মন্তব্য