নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ জুলাই, ২০২৫ ২৩:৫৭

দেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে চাইলে খালেদা জিয়াকে প্রয়োজন: ড. এনামুল

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে যদি রক্ষা করতে চান তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের অন্যতম উপদেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক ফরেন অ্যাফেয়ার্স এডভাইজারি কমিটির সদস্য ড.এনামুল হক চৌধুরী।

রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে বিয়ানীবাজার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদেরকে বাসা বাড়িতে থাকতে দেয়নি। কিন্তু আমরা পিছপা হইনি। কারণ আমাদের পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। আমার মায়ের দোয়া বিগত সরকারের আমলে দলের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছি। আমি আমার চাকরি, ব্যবসা সবকিছু ছেড়ে রাজনীতিতে সময় দিয়েছি। রাতের আঁধারে আমার বাসায় ডিবির গাড়ি এসে আমাদের তুলে নিয়ে যায়। বাসায় আক্রমণ করা হয়েছিল। এমনকি আমাদের সিনিয়র নেতাদের গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

নিখোঁজ সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ও নিখোঁজ সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার সম্পর্কে বলেন, আজকে পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবারের সদস্যরা ও আমরা জানি না তারা কোথায় কীভাবে আছে। গুম হওয়ার এত বছর পরও তাদের পরিবার সঠিক কোনো জবাব পায়নি। সঠিক জবাব পাওয়ার জন্য প্রয়োজন আগামী নির্বাচনে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে ধানের শীষকে বিজয়ী করা।

তিনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা যদি শুধু দাবি বলে থাকি আর কাজ না করে থাকি তাহলে দাবিটা দাবির জায়গায় থেকে যাবে তা বাস্তবায়ন হবে না। দাবি বাস্তবায়ন করতে হলে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। দাবি বাস্তবায়নের প্রথম কাজ হলো আমাদের বাসা-বাড়িতে যারা মহিলা রয়েছেন তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে ধানের শীষের পক্ষে নিয়ে আসা।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে যদি রক্ষা করতে চান তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রয়োজন জানিয়ে বলেন, আজকে জাতীয় অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়া। যিনি একটি মিথ্যা মামলায় দেশের জন্য জেলে গিয়েছেন। যে ২ কোটি টাকা তৎকালীন সময়ে ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে আজকে তা ১১ কোটি টাকা। এই টাকাগুলো কুয়েত সরকার দিয়েছিল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের জন্য। আমি নিজেই সাক্ষী এইটার, কারণ আমি নিজেই গিয়ে কুয়েত সরকারের আমীরের কাছ থেকে কাগজগুলো নিয়ে এসেছি। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তাকে মিথ্যা মামলায় জেল পাঠিয়েছে।

মতবিনিময় সভায় উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি আব্দুল ছবুরের সভাপতিত্বে সাবেক প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন পরিচালনায় প্রধান বক্তব্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল ফাত্তাহ, জেলা বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক আবু নাসের পিন্টু, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি সাবেক সহ সভাপতি আলী হাসান, গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল আহমদ, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান, কামিল আহমদ, লিয়াকত আলী, সেলিম আহমদ, মশিকুর রহমান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত