০৮ জুলাই, ২০২৫ ১৯:২৬
সিলেটে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। প্রশাসনের সাথে বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা এ ঘোষণা দেন। এরআগে শুরুর প্রায় ৭ ঘন্টা পর মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় কর্মবিরতি আপাতত স্থগিত করেছিলেন আন্দোলনকারীরা।
পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়াসহ ৬ দফা দাবিতে মঙ্গলবার ভোর থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এতে বন্ধ হয়ে পড়ে সব ধরণের যান চলাচল। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন শ্রমিকরা।
দুপুরে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সিলেটের শীর্ষ রাজনীতিবিদরাও একই অনুরোধ করেন।
বেলা ১ টার দিকে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল হক কর্মবিরতি ‘আপাতত’ স্থগিতের ঘোষণা দেন।
এসময় তিনি বলেন, ৬ দফা দাবিতে আমরা কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়েছিলাম। তবে আমাদের কেন্দ্রিয় সড়ক মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ কর্মবিরতি স্থগিতের সুপারিশ করছেন। এছাড়া প্রশাসন, বিশেষত সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার তার প্রতিনিধি পাঠিয়ে অনুরোধ করেছেন এবং বিভাগীয় কমিশনার বিকেলে বৈঠক ডেকেছেন। তাই পরীক্ষার্থীসহ বিদেশযাত্রী ও সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে আমরা আপাতত আমাদের কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করলাম। পরবর্তীতে বিভাগীয় কমিশনারের সাথে বৈঠকের পরে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবো।
এরপর বিকেল সাড়ে ৩ টায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সাথে বৈঠকে বসেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী।
সন্ধ্যায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। এগুলো বিবেচনার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন।
তিনি বলেন, আমাদের আশ্বাসে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল হকও।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ওই বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর জামায়াতের আমীর মোঃ ফখরুল ইসলামসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে শুরু হওয়া পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে সিলেট জেলায় সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ ছিলো। কিছু গাড়ি সড়কে বের হলেও চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করে পরিবহণ শ্রমিকরা। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।বৃষ্টির দিন হওয়ায় জনভোগান্তি দ্বিগুণ হয়। সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার মানুষ গন্তব্যে পৌছাতে পারেনি সময়মতো।
সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দবিগুলো হলো- তাদের ৬ দফা দাবিগুলো হলো সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান ২৫ বছর, সিএনজি ও ইমা লেগুনা এর ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল করা, সিলেটের সকল পাথর কোয়ারীর ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল এবং পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়া, বিআরটিএ কর্তৃক সকল গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণ পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের উপর আরোপিত বার্ধিত টেক্স প্রত্যাহার করা, সিলেটের সকল ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করন বন্ধ, বিদ্যুৎ মিটার ফেরত ও ভাংচুরকৃত মিলের ক্ষতিপূরণ এবং গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর ও বালুর ক্ষতি পূরণ দেওয়া, সিলেটের পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে অবিলম্বে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা ও সড়কে বালু ও পাথরবাহী গাড়িসহ সকল ধরনের পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানী বন্ধ করা।
আপনার মন্তব্য