০৯ জুলাই, ২০২৫ ২৩:০৫
দুই পক্ষের সংঘাতের পর থেকে নবীগঞ্জ পৌর শহরের সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ছবি সংগৃহীত
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দুক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির ফলে পুরা নবীগঞ্জজুড়ে এক ভূতূড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।
উপজেলাজুড়ে সকাল থেকে যৌথবাহিনীর টহল চলছে। শহরে সুনশান নীরবতা। শহরের সব দোকানপাট বন্ধ, কেনাবেচা নেই। আর প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে শহরসহ ৭টি গ্রাম।
উপজেলার পুর্ব তিমিরপুর, পশ্চিম তিমির পুর, চরগাও, আনমনু, রাজাবাদ, নোয়াপাড়া ও পিরিজপুর এসব গ্রামে যৌথবাহিনী অভিযান দিয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। সংঘর্ষের সময় নবীগঞ্জ শহরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে অন্তত ২০ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে ১৪৪ ধারা বর্ধিত করে বুধবার রাত ১২ টা পর্যন্ত করা হয়েছে। ঘটনা নিস্পত্তির জন্য বুধবার বিকেলে শহরের বাহিরেআউশকান্দিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশ প্রক্রিয়ার জন্য নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজার হাফিজিয়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ।
এ সভায় ১৭ সদস্য বিশিষ্ট সালিশ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে নবীগঞ্জের চলমান বিবাদের মিমাংসার অগ্রগতি সাধন ৫টি বিষয় প্রধান্য দেওয়া হয়েছে।
এগুলো হলো- সালিশ বোর্ড গঠন, উভয় পক্ষের সম্মতি গ্রহণ, প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সাধন করা, নিহত ফারুক মিয়ার জন্য শোক প্রকাশ করা হয়, অহেতুক নিরীহ জনসাধারণকে প্রশাসন হয়রানি না করা ও সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষ পরিবেশ শান্ত থাকার আহ্বান।
এই সভায় বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর সেক্রেটারী ও হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সরফরাজ আহমেদ চৌধুরী, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা, নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী শেফু, নবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আশরাফ আলী, সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল হক চৌধুরী সাদিক,নবীগঞ্জ কল্যান সমিতির সভাপতি শাহ মনসুর আলী খান,সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবুল ফজল, অধ্যাপক আব্দুল হাই, কুর্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমান, মোঃ ছালিক মিয়া, সাংবাদিক এস আর চৌধুরী সেলিম, গন অধিকার পরিষদের নেতা আবুল হেসেন জীবন, মাওলানা নুরুল হক, মাস্টার সোহেল আহমদ, মাওলানা ফয়ছল আহমদ তালুকদার, প্রমুখ।
সভায় ১৭ সদস্য বিশিষ্ট সালিসি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মনসুর আলী খানকে আহ্বায়ক, মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা নুরুল হক, এডভোকেট আবুল ফজল, মাওলানা ফয়ছল তালুকদার, সরফরাজ চৌধুরীকে যুগ্মআহবায়ক ও সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছ।
কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দ খালেদুর রহমান এর সাথে একাধিক বার সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি ফোন না ধরার কারণে সদস্যদের নাম জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, স্থানীয় দুই সাংবাদিক সেলিম তালুকদার ও আশাহিদ আলী আশার মধ্যে একে অপরকে কটুক্তি করা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধ গড়ায় কয়েক গ্রামবাসীর সংঘর্ষে। প্রথমে সেলিম তালুকদারের পক্ষে পূর্ব তিমিরপুর এবং আশাহীদ আলী আশার পক্ষে আনমনু গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে তাদের পক্ষ নিয়ে আরও কয়েক গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে জড়ায়। শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ রূপ নেয় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে। আশাহিদ আলী আশার পক্ষে মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এবং সেলিম তালুকদারের পক্ষে অমৎস্যজীবী সম্প্রদায় অবস্থান নেয়।
৭ জুলাই সোমবার নবীগঞ্জ বাজারে কয়েক ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা এম্বুলেন্স চালক ফারুক মিয়া (৪২) মারা যান। আহত হন শতাধিক মানুষ। এ সময় নবীগঞ্জ বাজারের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন, বেসরকারি হাসপাতাল ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়। এতে ব্যবসায়ীদের অন্তত ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এক পর্যায়ে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় ১৪৪ ধারা আর বর্ধিত করা হবে না।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. কামরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে দাঙ্গায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত আছে।
আপনার মন্তব্য