সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

০৭ আগস্ট, ২০২৫ ২২:১৬

দুই ছাত্রীর মৃত্যু: সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর অভিযান, মামলা-জরিমানা

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যুর প্রতিবাদ, নিরাপদ সড়ক ও দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহা সড়কে বিক্ষোভ করে তারা।  এর আগে মহাসড়ক আধাঘণ্টা অবরোধ করে ঘটনার প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থীরা। এসময় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরে শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন।

 মহাসড়কের শান্তিগঞ্জ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সড়ক দুঘর্টনাকে রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ড দাবি করে অনতিবিলম্বে হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জনোনো হয়।  নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে ফিটনেস বিহীন গাড়ি, লাইসেন্স বিহীন গাড়ি চেক করেন। পরে প্রায় আধাঘন্টা অবরোধের পর পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধে এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তারা অবরোধ থেকে সরে আসেন।  

পরে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহার নেতৃত্বে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ, জয়কলস হাইওয়ে থানা পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহা সড়কে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা কালে মোটর যান আইনে ৪টি বাস, ৫টি এসএজি গাড়ী ও ১ টি মোটর সাইকেল সহ মোট ১০ টি মামলা দেয়া হয় এবং নগদ ২৩,৫০০/-টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

 বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার ইতিমধ্যে ২৪ঘন্টা পার হয়ে গেছে, এখনও বাস চালককে আটক করেনি প্রশাসন। এসময় শিক্ষার্থীরা ১২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, আমাদের বোন মারা গিয়ে এখন কবরে অথচ প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে তারা করছে টা কি? আমরা পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই যদি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করে, আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।

          শিক্ষার্থী তাকবিল হোসেন বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করি, তারা যেনো তাৎক্ষণিকভাবে আমাদেরকে নিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ফিটনেসবিহীন পরিবহনকে আটক করে মামলা দেয়। কিন্তু পুলিশ দাড়িয়ে দাড়িয়ে তামশা দেখছে। কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এরপর আমরা বাধ্য হয়ে নিজেরা এই সড়কের বাসগুলোর ফিটনেস ও লাইসেন্স দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু ১০ বাসের মধ্যে ১০টা বাসেরই কাগজপত্র ঠিকঠাক ছিল না। এদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সড়ক নিরাপদের দাবি জানাই।

          শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহা বলেন, গতকাল থেকে শুরু করে পুরো মাস জুড়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহা সড়কে বেশ কিছু সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অন্যান্য লোকজনদের কাছ থেকে জেনেছি। এ সড়কের অধিকাংশ যান বাহনের ফিটনেস বা লাইসেন্স নেই। তাই  নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসাবে আজকের এ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত