১১ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:১৯
সুনামগঞ্জ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস জেলার রংডাঙাই গ্রাম থেকে চার বাংলাদেশি নাগরিককে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও রাজ্য পুলিশ আটক করেছে। আটককৃতদের একজন পুলিশ সদস্য বলে জানা গেছে।
শনিবার সকালে যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হলেও রোববার রাত থেকে তাদের আটকের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও ফুটেজে স্থানীয়দের বলতে শোনা যায়, আটক ব্যক্তিরা ওই গ্রামে ডাকাতি ও অপহরণের চেষ্টা চালান এসময় স্থানীয়রা তাদের মারধর করেন।
পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিএসএফ ও পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন-জামালপুরের জাহাঙ্গীর আলম, একই জেলার সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মারফুর রহমান, নারায়ণগঞ্জের সায়েম হোসেন এবং কুমিল্লার মেহফুজ রহমান।
অভিযানস্থল থেকে বাংলাদেশি পুলিশ আইডি কার্ড, হাতকড়া, পিস্তল হোলস্টার, ম্যাগাজিন কভার, রেডিও সেট, মোবাইল ফোন, মুখোশ, কুঠার, তার কাটার যন্ত্র, বাংলাদেশি মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। আইডি কার্ডটি মারফুর রহমানের বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, তারা স্থানীয় বাসিন্দা বালসাং এ. মারাককে আক্রমণ ও অপহরণের চেষ্টা চালায়, যিনি গুরুতর আহত হয়ে শিলং সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তবে সে দেশের পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একজন অভিযুক্ত দাবি করেছেন, তিনি তক্ষক শিকার করতে গিয়েছিলেন। অন্য তিনজন জানান, তারা দেশে রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হওয়ায় আশ্রয়ের জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ যাচাই করছে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিএসএফ ও পুলিশ পাহাড়ি জঙ্গল থেকে আটক ব্যক্তিদের বের করে আনছে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা তাদের ওপর শারীরিক হামলাও চালায়।
বিজিবি সুনামগঞ্জ-২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, তারা সীমান্ত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার ভারতের ভেতরে আটক হয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তারা ৬-৭ জনের একটি দল হয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের উদ্দেশ্য ‘অসৎ’ ছিল। বিজিবি ও বিএসএফ বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় করছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জাকির হোসেন জানান, আটক মারফুর রহমান এক সময় ঢাকায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কাজ করতেন, তবে পরে চাকরি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
আপনার মন্তব্য