নবীগঞ্জ প্রতিনিধি

২৪ আগস্ট, ২০২৫ ২২:৩৮

নবীগঞ্জে সিএনজি স্টেশনে অগ্নিকান্ড: রহস্য উদ্ঘাটন নিয়ে জটিলতা

নবীগঞ্জের সিএনজি ফিলিং পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে দায়িত্বশীল দুটি পক্ষ থেকে।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বাসের কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। অন্যদিকে বাস পরিবহন শ্রমিক পরিষদ সেটি মানতে নারাজ। তারা পাম্প কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বিচার দাবি করছেন।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক বলছেন, তাদের তদন্তে প্রমাণ হলে বাসের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সিএনজি পাম্পকে। দুই দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট বিস্ফোরক অধিদপ্তরের জমা দেওয়া হবে। তখন সিএনজি পাম্পকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হবে।

নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ‘মেসার্স আউশকান্দি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মোস্তফা ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসের মধ্যে নিম্নমানের কিটস ব্যবহারের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি পরিদর্শন শেষে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মোস্তফা ফারুক বলেন, ২১ আগস্ট ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে হোসেন এন্টারপ্রাইজ নামক একটি যাত্রীবাহী বাসে সিএনজি ভরার সময় সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক করে। এতে পুরো স্টেশন প্রাঙ্গণে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এবং সাদা মেঘের মতো আবরণ তৈরি হয়। এ সময় স্টেশনে থাকা অটোরিকশা বা গাড়ির ইঞ্জিনের স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। যা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সিএনজি স্টেশনের কাগজপত্র পরীক্ষা করছেন তারা। তিন মাস পর পর গ্যাস স্টেশনের সার্ভিসিং করার কথা। তারা ২০ দিন আগে দেশের শীর্ষ গ্যাস সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠান দ্বারা ফিলিং স্টেশন সাভিসিং করিয়েছেন। এদের কাগজপত্র সঠিক কিনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়া হলে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠাবেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, দেশে ২০০১ সাল থেকে সিএনজি ব্যবহার শুরু হয়। সিএনজি সিলিন্ডারের মেয়াদকাল ২৫ বছর হলেও প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। বাস্তবে সিলিন্ডার রূপান্তরের পর অধিকাংশ গাড়ির মালিক সিলিন্ডারের সার্ভিসিং করেন না। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

প্রতিকার ব্যবস্থা হিসেবে তিনি প্রস্তাব করেন- মোটরযানের ফিটনেস সনদ গ্রহণের সময় সিলিন্ডারের রি-টেস্ট সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করতে হবে। সিএনজি বিধিমালা ২০০৫ এর ৭৮ নম্বর বিধি অনুসারে প্রতি তিন মাস অন্তর স্টেশনের সরঞ্জামাদি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

একই বিধিমালার ৭৯ নম্বর বিধি অনুযায়ী রিফুয়েলিং স্টেশন নিরাপত্তাবিষয়ক বার্ষিক জরিপ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

তদন্তদলের সদস্যরা জানান, বাসের লোকজন কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। যেহেতু সিএনজি স্টেশনে ঘটনা হয়েছে, তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের পরবর্তী করণীয় কী সেটা জানানো হবে। দপ্তরের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে। বাসের কিটগুলো তিন মাস অন্তর অন্তর সার্ভিসিং করার কথা থাকলেও তারা সার্ভিসিং করেছেন কিনা এখনও তা নিশ্চিত করা হয়নি।

বাসচালক ও মালিক শহীদ মিয়া জানান, তিনি বাসের বাঁ পাশের নজেলে আগুন লাগছে ডান পাশের সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বাসটি পাম্প থেকে বের করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। দুই বছর আগে বাসটি কিনে এক বছরে আগে গ্যাসে রূপান্তর করেছিলেন।

২১ আগস্ট ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে আউশকান্দি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে পুরোনো ফিটনেসবিহীন বাসে গ্যাস ভরার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই তা আশপাশে রাখা গাড়িতে ছড়িয়ে যায়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ, বাহুবল ও ওসমানীনগর থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ দুর্ঘটনায় ৯টি অটোরিকশা, একটি বাস, দুটি মোটরসাইকেলসহ পাম্প পুড়ে যায়। গুরুতর আহত হন ছয়জন। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত