২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২০:৫৯
শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় আনন্দোৎসব। পূজাকে ঘিরে উৎসবের আবেশ শুধু মণ্ডপে বা আরাধনায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ছড়িয়ে পড়ে বাজার-হাট ও পোশাকের দোকানগুলোতেও।
পূজার আগমনী সুর বাজতেই নতুন পোশাক কেনার ধুম পড়ে যায়, আর এই আনন্দে রঙিন হয়ে ওঠে মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল শহরের কাপড়ের বাজার। এখন ক্রেতাদের কেনাকাটায় মুখর শহরের অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান পর্যন্ত এখন জমজমাট কেনাবেচা চলছে। পূজাকে ঘিরে বাজারগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
রবিবার সরেজমিনে শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন অভিজাত বিপণী বিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, ইমিটেশনের গয়না ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। বিপণিবিতানের পাশাপাশি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ছিল নিম্ন মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের চোখে পড়ার মতো ভিড়।
ক্রেতাদের মধ্যে নারী, শিশু, তরুণ-তরুণীর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। তারা জানান, শেষ সময়ে ভিড় এড়াতে আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।
রাজঘাট চা বাগান থেকে শপিং করতে আসা শিলা বুনার্জি জানান, “দুর্গাপূজা আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছরই পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক ও উপহার কিনে থাকি এবারও পরিবারের সবাইকে নিয়ে মার্কেটে এসেছি।
কেনাকাটা করতে আসা সুশীল নামের এক ক্রেতা জানান, 'পূজাকে ঘিরে তার রয়েছে বিশেষ উচ্ছ্বাস। শেষ মুহূর্তের ভিড় আর হুড়োহুড়ি এড়াতেই এখনই কেনাকাটা সেরে নিচ্ছি। আসলে পূজার আনন্দ কেবল মন্ডপে ঘুরাঘুরিতে সীমাবদ্ধ নয়, কেনাকাটার মধ্যেও থাকে উৎসবের আসল রঙ। এ মুহূর্তে বাজারে ভিড় তুলনামূলক কম, তাই স্বাচ্ছন্দ্যে পছন্দমতো জিনিস কেনা যাচ্ছে। তবে কয়েকদিন পর যখন মানুষের ঢল নামবে, তখন এভাবে নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করা আর সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে শহরের স্বর্ণলঙ্কারের দোকানগুলোতেও বিক্রি বাড়ছে সমানতালে। নারীরা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন চুড়ি, মালা, আংটি, গলার হার ও প্রসাধনী সামগ্রী। বিক্রেতা পঞ্চম হাজরা জানান, পোশাকের পাশাপাশি মেয়েদের স্বর্ন অলঙ্কার, সিঁদুর ও অন্যান্য অনুষঙ্গের চাহিদাও বেড়েছে।
স্টেশন রোডের মদিনা মার্কেটের ‘গীতাশ্রী বস্ত্রালয়ের বিক্রেতা লিটন অধিকারী জানান, 'এবার ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি, কামিজ, কুর্তি,থ্রি-পিছ জামা,বিভিন্ন ধরনের থানকাপড় ও নারীদের জন্য জামদানী সহ বিভিন্ন ধরনের
বেনারশী সফট্ কাতান, তসর, বিভিন্ন ধরণের সিল্ক শাড়ি, জর্জেট শাড়ি, হাফসিল্ক, দুপিয়ান শাড়ি এবং দেশি তাঁতের শাড়িও এনেছি। আজ ক্রেতা সমাগম অনেক বেশি। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। আশা করছি, এ বছর ব্যবসা বেশ সফল হবে।'
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালি সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, 'আমাদের চা শ্রমিকদের পূজার কেনাকাটা এখনও শুরু হয়নি। সোমবারে চা বাগানগুলোতে উৎসব ভাতা-বোনাস পাওয়ার পর চা শ্রমিকরা পূজার কেনাকাটা করবেন।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এভাবেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে শ্রীমঙ্গলের বিপনী বিতানগুলো। ব্যবসায়ীরা যেমন বিক্রি বাড়াই সন্তুষ্ট, তেমনি ক্রেতারাও খুঁজে পাচ্ছেন উৎসবের আনন্দের এক অনন্য রূপ।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ণভাবে উদযাপনের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামন্ডপ, বিপণিবিতান ও জনসমাগমস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। আমরা চাই, পূজা ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বিশৃঙ্খলার কোন ঘটনা যেন না ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসলাম উদ্দিন বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে শহরের মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ নজরদারি রয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা তৎপর। পূজার সময় যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে কেনাকাটা ও উৎসব পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
আপনার মন্তব্য