১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ২২:০০
সিলেট কারাগার থেকে এক ঘন্টার জন্যে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিলেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুর দুইটায় সিলেট কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ডিবি ও বিশ্বনাথ থানা পুলিশের পাহারায় বাবার জানাজায় অংশ নেন তিনি। এরপর দুপুর আড়াইটায় পূর্ব-চান্দশিরকাপন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার বাবা রিয়াজ আলীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মসজিদের পার্শ্ববর্তি গ্রামের পঞ্চায়েতি কবর স্থানে তার বাবার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নামাজের আগে বাবার কফিনে (লাশ রাখার খাট) ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সিরাজ। এরপর জানাজার নামাজ শেষে মসজিদ গেটে তার সঙ্গে দেখা করেন স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা। এসময় তিনি তার ৮বছরের শিশুকন্যা রোহাইমা ইসলাম রিহাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বাবা বাবা করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। এরপর বিকেল ৩টায় আবারও পুলিশ পাহারায় তাকে সিলেট কারাগারে পাঠানো হয়।
আগেরদিন শনিবার বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে বিশ্বনাথ পৌরসভার পূর্ব-চান্দশিরকাপনের (বিদায়সুলপানি) নিজ গ্রামের বাড়িতে ইন্তেকাল করেন আওয়ালীগ নেতা সিরাজের বাবা রিয়াজ আলী (৯৫)।
এদিকে, শেষবারের মতো সিরাজ তার বাবার মুখ দেখা ও জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম তাকে জানাজায় অংশ নিতে এক ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট বিকেলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিশ্বনাথ পৌর শহরের আলহেরা শপিংসিটি ভাংচুর করেন। এরআগ মুহুর্তে আলহেরা মার্কেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী জামায়াত নেতা আলী আমজাদকে মারধর করা হয় এবং থানার পাশ্ববর্তি মুসলিম সুইটমিটের সমানে তার ইমায়াহা মোটর সাইকেল পুড়ানো হয়। পরদিন ৫আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় দ্রুত বিচার আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
এঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় দ্রুত বিচার আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। আলী আমজাদের মামলায় জামিনে থাকলেও আলহেরা ভাংচুর মামলায় কারাভোগ করছেন আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ মামলা নং (৭৬/২০২৪ইং)।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আসামি সিরাজুল ইসলামের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে জেলা প্রশাসক স্যার জানাজায় অংশ নেওয়ার জ্যন প্যারোলে মুক্তি দেন। জানাজার নামাজ শেষে আবারও তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মন্তব্য