০৩ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩৭
ছবি সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশের সাথে সিলেটেও শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা। এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিপাকে ফেলেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতীষ্ঠ পরীক্ষার্থীরা।
সিলেটে দিনে-রাতে প্রায় প্রতি ঘণ্টাতেই বিদ্যুৎবিভ্রাট চলছে।শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরও ভয়াবহ। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন। বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। মোমবাতি কিংবা হারিকেনের আবছা আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে অনেককেই। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার লাইটগুলোও অনেক সময় অকেজো হয়ে পড়ছে।
সিলেট এমসি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাদাত আনোয়ার হিমেল জানায়, গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের যে অবস্থা, তা খুবই করুণ। পরীক্ষার সময়েও এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে পড়াশোনায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটবে।
কানাইঘাটের স্কুলশিক্ষক আবদুর রহমান জানান, ক্লাসরুমে গরমে ঘামে ভিজে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। রাতে ঘুম কম হওয়ায় ক্লাসে তাদের মনোযোগ থাকছে না। পরীক্ষার্থীদের সেই সঙ্গে রয়েছে বাড়তি মানসিক চাপ। তাদের অবস্থা আরও খারাপ।
আম্বরখানার এক ব্যবসায়ী জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় বেচাকেনা থমকে গেছে। একই কারণে ফ্রিল্যান্সার ও রিমোট জবে থাকা তরুণরাও ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানিয়েছেন, চাহিদা মতো জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ না মেলায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটে বুধবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৪০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১৫৫ মেগাওয়াট। ফলে ৮৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়লে সিলেটেও লোডশেডিং কমবে।
আপনার মন্তব্য