নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:০৫

ওসমানীনগরে সড়ক দুর্ঘটনা: পরিচয় মিলেছে নিহত ৯ জনেরই

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের সংঘর্ষে মারা যাওয় ৯ জনেরই পরিচয় মিলেছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় স্বজনদের কাছে একে একে মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটিঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়, পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা সবাই ছিলেন ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।

সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে ধানক্ষেতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে শিশু জায়ফা ইসলাম ফাইজা (৪), সিলেটের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর থানার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন, এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।

এ ছাড়া দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি স্লিপার বাসের সঙ্গে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ইইনিক বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

ইউনিক পরিবহনের বাসের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশক্যামে ধারণ করা ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউনিক পরিবহনের বাসটি কয়েক দফা রাস্তার ডানপাশে গিয়ে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফের বাম লেনে ফিরে আসে। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে তীব্র গতিতে ছুটে আসা বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি ইউনিক পরিবহনের বাসের সামনের ডান পাশে ধাক্কা দেয়। এই আঘাতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে গিয়ে পড়ে ইউনিক পরিবহনের বাসটি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে জানান, সামনে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়েই বিপরীত লেনে চলে আসে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি। আর তখনই তীব্র গতিতে সংঘর্ষ ঘটে ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে।

দুর্ঘটনায় আহত কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের বাসিন্দা ফারুক মিয়া (৫২) জানান, পাঁচ বন্ধু মিলে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে এসেছিলেন তারা।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় একটু ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। বিভিন্ন মানুষজন ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর মধ্যে আমাদের বন্ধু সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন।


সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর শুক্রবার দুপুরে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরবর্তীতে ইএনটি, চক্ষু ও নিউরোসার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি তিনজনের মধ্যে একজনের সিটিস্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। একজনের সিটিস্ক্যান এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

পরিচালক আরও জানান, হাসপাতালে আনা ১৬ জনের মধ্যে একটি শিশুকে প্রথমে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাকি ১৪ জনের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিদের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে জানান তিনি।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, নিহত ৯ জনেরই পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। এখন মরদেহ তাদের পরিবারের হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান ওসি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত