০৮ আগস্ট, ২০২৬ ০১:৪৬
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক বাসটির পেছনে একটি গাড়ি থেকে ভিডিওটি করা হয়। দুর্ঘটনার চিত্র ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা ভিডিওটি দিয়েছে। ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে দুর্ঘটনার সময় কোন গাড়ি কোন অবস্থানে ছিল।
এতে দেখা যায়, বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ছিল। বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে খাদে চলে দেয়।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।
এ ছাড়া, দুই বাসের আরও কমপক্ষে ২৪ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ইউনিক পরিবহনের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশক্যামে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিক পরিবহনের বাসটি কয়েকবার রাস্তার ডানপাশে উঠে এসে ওভারটেক করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বাম পাশে থাকে।
হঠাৎ সামনে থেকে তীব্রগতিতে বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি এসে ইউনিক পরিবহনের বাসের সামনের বামপাশে ধাক্কা দিয়ে বাম দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে নেমে যায়।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে জানান, একটি পিকআপ ভ্যান ওভারটেক করতে গিয়ে রাস্তার ডানদিকে চলে আসে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি। তারপর তীব্রগতিতে ধাক্কা দেয় ইউনিক পরিবহনের বাসকে।
দুর্ঘটনায় আহত ইউনিক পরিবহনের যাত্রী কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ফারুক মিয়া (৫২) জানান, দুর্ঘটনার সময় একটু ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। মানুষজন ধরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমাদের বন্ধু সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে শিশু জায়ফা ইসলাম ফাইজা (৪), সিলেটের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর থানার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন, এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।
তাদের মধ্যে জাইফা ও প্রিতম সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আর বাকিরা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তারা সবাই ইউনিক বাসের যাত্রী।
নিহত পেহেলী ভৈরবী বাউলশিল্পী ছিলেন। তিনি সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিচিতজনরা।
এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর বলেন, দুর্ঘটনার পর ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ইএনটি, চক্ষু বিভাগ ও নিউরো সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, নিউরো সার্জারিতে ভর্তি তিন জনের মধ্যে একজনের সিটিস্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে, একজনের সিটিস্ক্যান এখনও হয়নি, আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
পরিচালক আরও জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসা ১৬ জনের মধ্যে এক শিশুকে প্রথমে মৃত ঘোষণা করা হয়। এরপর আরেকজন মারা যান। এর বাইরে বাকি ১৪ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আপনার মন্তব্য