০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২৫
সিলেট থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে বাসের জানালায় আশপাশের দৃশ্য দেখছিল ১৬ বছর বয়সী জান্নাতুল। পাশে ছিল ছোট ভাই মোহাম্মদ। অন্যদিকে বাসটির ডান পাশের আসনে ছিলেন বাবা জাহাঙ্গীর আলম ও মা নুরুন্নাহার। তাদের কোলে ছিল তিন বছরের শিশু জায়ফা।
শুক্রবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশীকাপন এলাকায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই ইউনিক পরিবহনের ওই বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের আরেক বাসের। একপর্যায়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায় পরিবারটিকে বহনকারী ইউনিক পরিবহনের বাসটি। এতে আহত হন পরিবারটির প্রায় সব সদস্য। হাসপাতালে নেওয়ার পর ছোট্ট জায়ফাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। বাকিরাও সেখানে চিকিৎসাধীন।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিল জান্নাতুল। একপর্যায়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে সে বলে, ‘ছোট বোন জায়ফা তখন ছিল বাবা-মায়ের কোলে। হঠাৎ জোরে একটা শব্দ হলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।’
দুর্ঘটনায় জান্নাতুল ও মোহাম্মদ তুলনামূলক কম আহত হয়েছে। গুরুতর আহত হন তাঁদের বাবা-মা। আহত হয় জায়ফাও। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, জায়ফা মারা গেছে।
ওই হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন জাহাঙ্গীর আলম। চতুর্থ তলায় ভর্তি নুরুন্নাহার। দুজনই গুরুতর আহত। তবে তাঁরা হয়তো এখনো জানেন না, যে শিশুকে বুকে আগলে নিয়ে তাঁরা ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন, সে আর ফিরবে না।
জাহাঙ্গীর আলম সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় টায়ার মেরামতের ব্যবসা করেন। তাঁর প্রতিবেশী ব্যবসায়ী হাসান আহমদ জানান, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই ফোন করে দুর্ঘটনার খবর দেন। এরপর তিনি কয়েকজনকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন।
হাসান আহমদ বলেন, ‘এসে দেখি, সবাই আহত। পরে জানতে পারি, ছোট্ট মেয়েটা আর নেই।’
আহত বাবা-মায়ের পাশে থেকে তাঁদের সন্তানদের সামলানোর চেষ্টা করছেন স্বজনেরা। জাহাঙ্গীরের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে। তিনি প্রায় অচেতন অবস্থায় আছেন। নুরুন্নাহারের মুখ, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত আছে।
আপনার মন্তব্য