শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:০৪

আত্মীয়র মরদেহ দেখতে গিয়ে নিজেরাই মৃত্যুর কোলে

আত্মীয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে মরদেহ দেখতে গিয়েছিলেন শ্রীমঙ্গলের মাইজদিহি চা বাগানের পাপ্পু নায়েক ও জয় সিং ছত্রী। ফেরার পথে নিজেরাই ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মেট তিনজন।

নিহতরা হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাইজদিহি চা বাগানের সুশীল নায়েকের ছেলে পাপ্পু নায়েক (২৪) ও অমৃত সিং ছত্রী ছেলে জয় সিং (২৪) এবং তাদের বহনকারী সিনএনজি অটোরিকশা চালক হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুরের শিমুলিয়া গ্রামের আনোয়ারুল আলিম। তারা হবিগঞ্জের চণ্ডীছড়া চা বাগানে এক আত্মীয়ের লাশ দেখে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।

​পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলম এশিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাতগাঁও হাইওয়ে থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাঁরা দুর্ঘটনায় কবলিত অটোরিকশার ভেতর থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাভিদ বলেন, তিনজনকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। নিহত তিনজনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ছিল। তাঁদের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের পা, একজনের দুই হাত ভেঙে গেছে। চিকিৎসক আরও বলেন, নিহত ব্যক্তিদের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

​নিহতদের প্রতিবেশী স্মরণ সিং বলেন, পাপ্পু ও জয় হবিগঞ্জের চণ্ডীছড়া চা-বাগানে গিয়েছিল তাদের এক আত্মীয়ের লাশ দেখতে। সন্ধ্যার দিকে জয়ের ভাইয়ের কাছে জয় ফোন করে সিএনজির ভাড়াও চেয়েছে। তার বড় ভাই তাকে টাকাও পাঠিয়েছে। এখন এসে দেখি তাদের লাশ পড়ে আছে হাসপাতালে।

​এ বিষয়ে সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাস ও চালককে আটক করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত