২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৩
একটি আত্মহত্যার খবর কখনো কখনো শুধু একটি খবর থাকে না। ভুলভাবে উপস্থাপিত হলে তা অন্য কারও মনে আত্মহত্যার চিন্তা তৈরি করতে পারে। মনোচিকিৎসা বা সাইকিয়াট্রির পরিভাষায় এই সূক্ষ্ম বিষয়টিকে বলা হয় Werther Effect (ওয়ার্থার ইফেক্ট)।
ওয়ার্থার ইফেক্ট (Werther Effect) হলো আত্মহত্যার ঘটনা গণমাধ্যমে এমনভাবে প্রচার করা- যেমন ঘটনার খুঁটিনাটি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা, ঘটনার আগের ও পরের ঘটনাপ্রবাহে অতিরিক্ত নাটকীয়তা সৃষ্টি করা কিংবা পুরো বিষয়টিকে চাঞ্চল্যকরভাবে উপস্থাপন করা যার ফলে সেই সংবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অন্যদের মধ্যে, বিশেষ করে যারা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন, অনুকরণমূলক আত্মহত্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
জার্মান সাহিত্যিক Johann Wolfgang von Goethe-র উপন্যাস The Sorrows of Young Werther প্রকাশের পর এর নায়ক Werther-এর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে অনুরূপ কিছু আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল বলে ধারণা করা হয়। এই সাহিত্যকর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত সেই অনুকরণমূলক আত্মহত্যার ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট থেকেই পরবর্তীকালে এ ধরনের ঘটনাকে “Werther Effect” বলা হয়।
বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসতর্ক ব্যবহার আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে। আত্মহত্যার পদ্ধতি, স্থান বা বিস্তারিত আকর্ষণীয় ও নাটকীয়ভাবে বর্ণনা করা, মৃত ব্যক্তির ছবি বারবার প্রচার করা, আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা, অতিরঞ্জিত শিরোনাম ব্যবহার কিংবা আত্মহত্যাকে প্রেম, প্রতিবাদ বা বীরত্বের সঙ্গে রোমান্টিকভাবে উপস্থাপন করা এসব কখনো কখনো ঝুঁকিতে থাকা কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা বা আচরণকে উসকে দিতে পারে।
তাই সংবাদ পরিবেশনে প্রয়োজন সচেতনতা।
সঠিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনা জীবন বাঁচাতে পারে এবং ঝুঁকিতে থাকা তরুণ-তরুণীদের আত্মহত্যা থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
আত্মহত্যার খবর প্রকাশের সময় পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরণ এড়িয়ে গিয়ে সংকটে সাহায্য পাওয়ার পথ, মানসিক চিকিৎসার গুরুত্ব এবং আশাব্যঞ্জক পুনরুদ্ধারের গল্প তুলে ধরা যেতে পারে। এজন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ ও আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে।
একটি দায়িত্বশীল সংবাদ হয়তো শুধু একটি খবর প্রকাশ করে না; কখনো কখনো একটি জীবন রক্ষার সুযোগও তৈরি করে। তাই আত্মহত্যার সংবাদে চাঞ্চল্য নয়, নাটকীয়তা নয়, দোষারোপ নয়, বিস্তারিত বিবরণ নয়, হতাশা নয়; বরং আশার বার্তাই হোক আমাদের গণমাধ্যমের অঙ্গীকার।
আপনার মন্তব্য