০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:০১
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহাকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সদস্য করা হয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে ওসমানীনগরের কাশিকাপুর এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় মোট ৯ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ৩ থেকে ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন গুরুতর একজনকে ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এছাড়া নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কটি ফাঁকা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালকদের বেপরোয়া গতি অথবা গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক ধারণা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট বিষয় ও সম্ভাব্য দায় নিরূপণে তদন্ত কমিটি কাজ করবে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীনদের দেখতে শনিবার সকালে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।
আপনার মন্তব্য