নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২০:২৭

পনেরো দিনের মধ্যে সিসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আদালতের নির্দেশ

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ভারপ্রাপ্ত মেয়র পদ নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটার সম্ভাবনার দেখা মিলছে অবশেষে। সিসিক’র প্যানেল মেয়র-১ রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং প্যানেল মেয়র-২ সালেহ আহমদ চৌধুরীর দায়েরকৃত দুটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে ১৫ দিনের মধ্যে নির্ধারিত হবে কে হচ্ছেন সিসিক’র ভারপ্রাপ্ত মেয়র। এমনটাই জানিয়েছেন সিসিক’র প্যানেল মেয়র-১ রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর আইনজীবী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী (সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে কয়েস লোদী আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে এমন তথ্য জানান এডভোকেট মোস্তাক।

তিনি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ১১৯২৫/২০১৪ এবং প্যানেল মেয়র-২ সালেহ আহমদ চৌধুরীর দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ৩৬৫/২০১৫ একত্রে শুনানি শেষে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৫ সালের ৬ মে যে রায় প্রদান করেন, সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি গত ২২ ফেব্রুয়ারি আমরা হাতে পেয়েছি।

এডভোকেট মোস্তাক বলেন, বিচারপতি নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম কর্তৃক দেয়া রায়ে গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পয়েন্ট রয়েছে। রায়ের কপির ১৫নং পেইজে বলা হয়েছে- ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য লোদীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে প্যানেল মেয়র লোদী যেহেতু কখনো মেয়রের দায়িত্ব পালন করেননি, সেহেতু তার ক্ষমতা অপব্যবহারের সুযোগই ছিল না। অধিকন্তু, কাউন্সিলর হিসেবেও ক্ষমতা অপব্যবহারের কোন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নেই। রায়ের ১৬নং পেইজে বলা হয়েছে- লোদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়নি এবং কারণ দর্শানোর নোটিশও জারি করা হয়নি।

তিনি বলেন, প্রদত্ত রায়ের ১৬নং পেইজে আরো বলা হয়েছে- কয়েস লোদীর প্যানেল মেয়র পদবী ব্যবহারে আইনে কোনো বাধা নেই। অধিকন্তু, প্যানেল মেয়র পদবী আইনেরই সৃষ্টি। রায়ের ১৯নং পেইজে বলা হয়েছে- প্যানেল মেয়র কয়েস লোদীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান আইনের ১৪ ধারা অনুসরণ করা হয়নি।

লোদীর আইনজীবী এডভোকেট মোস্তাক আরো বলেন, যে রেজুলেশনে কয়েস লোদীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়, সেই রেজুলেশন বিদ্যমান আইনের ৫৭ ধারা অনুসারে ১৪ দিনের মধ্যে অনুমোদন করতে হবে। কিন্তু ২০১৪ সালের ১০ জুন গৃহিত রেজুলেশনটি ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর অনুমোদন করা হয়। রিট চলাকালে এই অনুমোদনকে আদালত ভৎসর্না করে এটিকে আইনের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।

এডভোকেট মোস্তাক বলেন, প্রদত্ত রায়ের ২১ ও ২২নং পেইজে বলা হয়েছে- বিদ্যমান আইনের ২০ ও ২১ নং ধারা অনুসারে প্যানেল মেয়র-১ অনিচ্ছা প্রকাশ না করলে প্যানেল মেয়র-২ ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কোন সুযোগ নেই। সুতরাং, সিসিক’র মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর যে আদেশবলে প্যানেল মেয়র-২ কে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেন, তা ঠিক হয়নি। কারণ তা আইনানুগ নয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে কয়েস লোদীর আইনজীবী আরো বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের ২২নং পেইজে বলা হয়েছে- বিদ্যমান আইনের ১০৭ ধারা অনুসারে সিটি করপোরেশনের যে কোনো কার্যধারা বাতিলের ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। যদিও এটি আপিলের বিধান নয়, তথাপি রিট আবেদনকারী বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য আবেদন করতে পারেন। আদালত উপরোক্ত অভিমত সমূহ ব্যক্ত করে বিষয়টির উপর ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রদানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং ততদিন পর্যন্ত সিসিক’র প্রধান নির্বাহীকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের আদেশ দিয়েছেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি আগামী ২৯ ফেব্রুুয়ারি নাগাদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পৌঁছবে জানিয়েছে এডভোকেট মোস্তাক জানান, এরপর থেকেই আদালতের আদেশকৃত ১৫ দিন শুরু হবে। এসময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের বিষয়টি নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রারম্ভিব বক্তব্য রাখেন সিসিক’র প্যানেল মেয়র-১ রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত