২৪ মার্চ, ২০১৬ ১৬:২৪
বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড.মঞ্জুর উদ্দিন আহমেদ শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বকুলের বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে মোটা অংকের টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়েও অনেক প্রার্থীরা তাদের দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।
জানা যায়,ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) ৫ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি সিলেকশন বোর্ড গঠন করে। এ বোর্ডে উপজেলা বিএনপির সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক,ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে সদস্য হিসেবে রাখা হয়। এ অনুযায়ী এদের ভোটে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার কথা।
এদিকে বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী দিতে উপজেলা নেতাদের মধ্যে চলছে প্রতিযোগীতা। পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে তারা শুরু করেছেন বানিজ্য।গত ১৬মার্চ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ডাঃ সাখাওয়াত হাসান জীবনের উপস্থিতিতে বোর্ডের স্থানীয় সদস্যদের ৩টি ভোট পেয়েও দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন না ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃএনামুল হক (সবুর)। উপজেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রের দোহাই দিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে স্থানীয় বোর্ডের সদস্যদের প্রভাবিত করেছেন বলে এমন অভিযোগ করছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সবুর। বোর্ড সদস্যদের ৩টি ভোট পেয়েও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে হতাশ হয়েছেন তিনি।বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্র্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে প্রতিক্রিয়া।
গত মঙ্গলবার বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতার বাসভবনে এক বিশেষ বর্ধিত সভার আহবান করা হয়।সভায় দীর্ঘ সময় আলোচনা এক পর্যায়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রার্থী এনামুল হক সবুরকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য একমত পোষন করলেও তাদের এই মতের সাথে আপত্তি জানান উজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। ফলে কেন্দ্রের দোহাই দিয়ে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে প্রার্থীতা স্থগিত রাখা হয়।
ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদ মিয়া জানান,গত ১২ মার্চ রাত ৩টায় বিএনপির সভাপতির বাসায় আমাকে ও বোর্ডের অন্য সদস্য কিরণ আহমেদকে ডেকে নিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য ৫০হাজার টাকার অফার দেন।আমরা তখন তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করি।
এ বিষয়ে বিএনপির সভাপতি এড.মঞ্জুর উদ্দিন আহমেদ শাহিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান,আমি বোর্ডের প্রধান হিসেবে ওদিন রাতে অন্য প্রার্থীদের সাথে তারাও বাসায় আসতে পারে তবে আমার সঠিক মনে নেই। টাকার অফার দেয়ার ঘটনাটি সম্পুর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট।যারা দূর্নীতির মাধ্যমে মনোনয়ন পেতে চায় তারাই এসব বলতে পারে।
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ সাখাওয়াত হাসান জীবনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়ে তিনি ফোন ধরেন নি। পরে অন্য এক ব্যক্তি ফোন ধরে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান।
আপনার মন্তব্য