২৫ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৫১
সিলেট সদর উপজেলার ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এড.আফছর আহমদ বলেছেন ইউপির নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে ভুল ছিল। সঠিক প্রক্রিয়া মেনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়েই বিজয়ী হতে পারতেন। 'বিদ্রোহী' প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দলীয় এই ভুল সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছেন।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) বিকেলে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সদর উপজেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়নের নতুন চেয়ারম্যান আফছর বলেন, আমি নির্বাচিত হয়েছি জনগণের কাজ করার জন্য। ইউনিয়ন পরিষদের রুটিন কাজ করার পাশাপাশি রাস্তা ঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত চালাব। আমি আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণের উপর ইউপি করের বোঝা কমাবো।
একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় সমান সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা একটি বৃহৎ ইউনিয়ন হিসাবে ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের জনগণের জন্য করতে আমি সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে অনুরোধ জানাব।
নিজ দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে বিজয়ী চেয়ারম্যান হিসাবে ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনায় সরকার আপনাকে কতটুকু সহযোগিতা করবে জানতে চাইলে তিনি জানান, দল ও সরকার আমাকে সাহায্য করবেন। আমি দলের একজন নিবেদিত কর্মী ও নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসাবে সরকার আমাকে অবশ্যই সাহায্য করবে।
ইউপি নির্বাচনে তিনি তার দল আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন দলের মনোনয়নের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পালন করা হয়নি। নির্ধারিত ৬ জন যেখানে দলিয় মনোনয়ন প্রদানে থাকার কথা সেখানে পাশ কাটানো হয়েছে অনেকেই। তাতে করে এই প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু হয়নি। তাই দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা আমাকে প্রার্থী করেছেন। এজন্যই আমি প্রার্থী হয়েছি। তাছাড়া যিনি দলের প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি দলের কোন কার্যক্রমের সাথে সক্রিয় ছিলেন না। অতিথে উনার পোষ্টার, ব্যানার , ফেস্টুনে শুধুমাত্র উনারই ছবি থেকেছে। বঙ্গবন্ধু কিংবা শেখ হাসিনার ছবি দেননি।
সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে আমার দল আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা আমার সাথে থেকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করে আমাকে বিজয়ী করেছে। দলের জন্য আমি সবসময়ই ছিলাম নিবেদিতপ্রাণ এখনো আছি। দলের একজন কর্মী হিসাবে অতিথে আমি গুলি খেয়েছি, আমার বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আফছর আহমদ জানান, আমি বহিুস্কারের কোন চিঠি পাইনি। শুধুমাত্র পত্রিকায় দেখেছি।
গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিলেটের খাদিমপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এডভোকেট আফছর আহমদ বিজয়ী হন। ইউনিয়নের ১৭ টি কেন্দ্রে আনারস প্রতীক নিয়ে আফছর আহমদ পান ১৩৯৫৮ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ. ফারুক আহমদ (বিএনপি) পান ৯১০৩ ভোট। এছাড়া নৌকা প্রতীকের বিদায়ী চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বেলাল (আ.লীগ) ৭৭৩০ ভোট পান।
আপনার মন্তব্য