০৯ এপ্রিল, ২০১৬ ২১:২৫
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সিলেট সদর হাসপাতালে (বর্তমান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ শিশু হাসপাতাল) কর্তব্যরত অবস্থায় বর্বও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে প্রাণ হারানো শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ, ডা. শ্যামল কান্তি লালা, নার্স মাহমুদুর রহমান ও অ্যাম্বুলেন্স চালক কুরবান আলীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
এ দাবিতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৯ এপ্রিল (আজ শনিবার) নাগরিক মৈত্রী সিলেট বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল- সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে কালো ব্যাজ ধারণ, শোকর্যালিসহকারে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ, এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ।
এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- সিলেটের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার আরশ আলী, বিএমএ সিলেট’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. রুকন উদ্দিন আহমদ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুস সবুর মিঞা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু ইমাম, অধ্যাপক শামসুল আলম, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ একাত্তর’র সিলেট বিভাগীয় সভাপতি এডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল, শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদের ছোট বোন সুফিয়া খানম, ভাই জে.এম ফেরদৌস ও বিএম ফারুক, ভাগ্নি ফরিদা নাসরিন, এডভোকেট হোসেন আহমদ, এডভোকেট বিজয় কুমার দেব, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ.জেড রওশন জেবীন, খাদেজা ইসলাম দিনা, সংস্কৃতিক কর্মী রাজিব দে চৌধুরী, মামুন পারভেজ, মুন্সী মো. মিসবাহ উদ্দিন, তন্ময় মোদকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন।
এ প্রসঙ্গে ‘নাগরিক মৈত্রী’ সিলেটের আহবায়ক এডভোকেট সময় বিজয় সী শেখর বলেন, একাত্তরের ৯ এপ্রিল তৎকালীন সিলেট সদর হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় ডা. শামসুদ্দিন আহমদ, ডা. শ্যামল কান্তি লালা, নার্স মাহমুদুর রহমান ও অ্যাম্বুলেন্স চালক কুরবান আলীকে আটটের পর হাসপাতালেই গুলি করে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। ঘৃণ্য এ হত্যাক-ের প্রায় ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তাদেরকে কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়নি। দেশমাতৃকার এ শহীদ সন্তানদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে ‘নাগরিক মৈত্রী’ সিলেট। আর এরই অংশ হিসেবে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
জাতির ওই সূর্যসন্তানদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে এডভোকেট সময় বিজয় সী শেখর বলেন, যাদের রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন। তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে কিছুটা হলেও আমাদেরকে ঋণমুক্ত হতে হবে।
আপনার মন্তব্য