১৩ এপ্রিল, ২০১৬ ১৩:২১
পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশন মালিকদের পর এবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা। এক দল ধর্মঘট করেছে মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে, আর আরেকদল ধর্মঘট ডেকেছে মামলা নেওয়ার প্রতিবাদে। দুই পক্ষের এই লড়াইয়ে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ জনগণ। দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ চালকদেরও।
এরআগেও এই দুইপক্ষ নানা ইস্যুতে ধর্মঘট ডেকে জনগণের দূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত নিজেদের স্বার্থ হাসিলে জনদূর্ভোগের কথা বিবেচনায় না নিয়েই বিভিন্ন সময় ধর্মঘট পালন করে পরিবহন শ্রমিকরা।
এবারের ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে। ওইদিন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস লোড নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সাউথ সুরমা সিএনজি এন্ড পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশন নামক ওই স্টেশনের সত্ত্বাধিকারী অভিযোগ করেন, জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের ‘নির্দেশে’ ফিলিং স্টেশনে ওই হামলা-লুটের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ ফলিকের নাম বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার রাতেই মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি।
তাদের ডাকে মঙ্গলবার দিনভর সিলেট বিভাগে ধর্মঘট পালন করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্প মালিকরা। এতে বিভাগজুড়ে তীব্র জ্বালানী সঙ্কট দেখা দেয়। দুর্ভোগে পড়েন চালক ও যাত্রীরা।
মঙ্গলবার রাতে সেলিম আহমদ ফলিককে আসামী করে মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। এরপর মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।
তবে এই মামলা গ্রহণের প্রতিবাদে পাল্টা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিলেট পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বৃহস্পতিবারের মধ্যে সেলিম আহমদ ফলিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করা না হলে শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) থেকে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা। সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বুধবার সকালে এ ধর্মঘটের ডাক দেন।
দুপক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে পুলিশও। পুলিশ প্রথমে ফলিককে আসামী করে মামলা নিতে রাজী না হলেও ধর্মঘটের কারণে তারা মামলা নিতে বাধ্য হয়। তবে মামলা নেওয়ার ফলে এবার পাল্টা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পহেলা বৈশাখের ঠিক পরদিন পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট আহ্বান করায় জনদুর্ভোগ বেড়ে যাবে বহুলাংশেই। নববর্ষের ছুটিতে আসা ও বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যাওয়া নাগরিকদের পড়তে হবে বিপাকে। ধর্মঘটের কারণে সাধারণ চালকদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ ব্যাপারে নগরীর সিএনজি অটোরিকশা চালক লিপন মিয়া বলেন, কথায় কথায় তারা ধর্মঘট ডেকে বসে। এতে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরোতে পারি না।
ঢাকার একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সিলেটের শাহিন সিরাজ। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে ছুটিতে পরিবার নিয়ে সিলেট যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। কিন্তু শনিবার পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে ঢাকায় ফিরে আসা কষ্টকর হবে। তাই হয়তো সিলেট যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে।
আপনার মন্তব্য